Recent event

সুস্থ থাকতে ইফতার শুরু করবেন যেসব খাবারে; জানুন রোগভেদে সঠিক ডায়েট চার্ট

স্বাস্থ্যকর ইফতার রেসিপি
স্বাস্থ্যকর ইফতার রেসিপি | ছবি: এখন টিভি
0

রমজানে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতারে (Iftar) হুটহাট অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পেটের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি (Risk of Gastritis) বেড়ে যায়। তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা (Glucose Level) নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ইফতার গ্রহণ করা উচিত। ব্যক্তির বয়স, জীবনযাপন পদ্ধতি এবং শারীরিক রোগ অনুযায়ী ইফতারের তালিকা ভিন্ন হওয়া প্রয়োজন।

খাবারের নাম (Food Item) পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা (Benefits)
খেজুর (Dates) আয়রণ, পটাশিয়াম ও জিংক সমৃদ্ধ; তাৎক্ষণিক শক্তি যোগায়।
স্বাস্থ্যকর পানীয় ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ইসবগুল ও তোকমা দানা।
আঁশযুক্ত শর্করা মুড়ি, চিড়া, খই বা পপকর্ন; যা হজমে সহায়তা করে।
আমিষ ও চর্বি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভালো মানের চর্বি ও আমিষ কার্যকর।

আরও পড়ুন:

ইফতারের আদর্শ খাবার ও গুণাগুণ (Healthy Iftar Foods and Benefits)

ইফতারে প্রথমেই এমন খাবার রাখা উচিত যা দ্রুত শক্তি যোগাতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞগণ নিচের খাবারগুলোর ওপর জোর দিয়েছেন:

খেজুর (Dates): খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নাত এবং বিজ্ঞানসম্মত। এতে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিংক। এটি দ্রুত শক্তি (Instant Energy) যোগায় এবং হজমে সহায়তা করে।

পুষ্টিকর পানীয় (Healthy Drinks): পানিশূন্যতা রোধে শরবত বা ডাবের পানি অত্যন্ত কার্যকর। শরবতে ইসবগুলের ভুসি, তোকমা দানা, কাঁচা আম বা তেঁতুল মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিনি বা মধু এড়িয়ে চলাই ভালো।

আঁশযুক্ত শর্করা (Fiber-rich Carbs): শর্করা হিসেবে প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে মুড়ি, চিড়া, খই বা পপকর্ন খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

আমিষ ও ভালো চর্বি (Protein & Good Fat): ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শর্করা জাতীয় খাবারের চেয়ে ভালো মানের চর্বি ও আমিষ সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:

রোগভেদে বিশেষ সতর্কতা (Disease-Specific Precautions)

শারীরিক জটিলতা থাকলে ইফতারের খাবারে বিশেষ পরিবর্তন আনা জরুরি:

১. ডায়াবেটিস রোগী (Diabetic Patients): ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইফতারের পরিমাণ হবে সাধারণ সময়ের রাতের খাবারের সমান। অন্যথায় হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia) বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

২. কিডনি ও ইউরিক অ্যাসিড সমস্যা (Kidney & Uric Acid): যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি বা কিডনির সমস্যা আছে, তাদের ডাল জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর পরিবর্তে চালের গুঁড়া বা অ্যারারুটের তৈরি শিঙাড়া, সমুচা বা আলুর চপ খাওয়া যেতে পারে।

৩. আলসার ও গ্যাস্ট্রিক (Ulcer & Gastritis): যাদের আলসার বা এসিডিটির সমস্যা আছে, তাদের ডুবোতেলে ভাজা (Deep Fried) ও অতিরিক্ত ঝালযুক্ত খাবার পুরোপুরি পরিহার করতে হবে। কম তেলে রান্না করা ও কম ক্যালরিযুক্ত খাবারই তাদের জন্য উত্তম।

৪. গর্ভবতী নারী (Pregnant Women): গর্ভাবস্থায় রোজা রাখতে চাইলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভকালীন খাদ্য ব্যবস্থাপত্র (Pregnancy Diet Chart) অনুসরণ করতে হবে।

ইফতার গ্রহণের সঠিক পদ্ধতি (Step-by-Step Iftar Method)

পাকস্থলীকে সুস্থ রাখতে ইফতার ধাপে ধাপে গ্রহণ করা উচিত। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী:

  • প্রথম ধাপে: পানি ও খেজুর (Water and Dates) দিয়ে রোজা ভাঙা।
  • দ্বিতীয় ধাপে: বিভিন্ন পুষ্টিকর পানীয় বা শরবত গ্রহণ।
  • তৃতীয় ধাপে: অন্যান্য হালকা খাবার দিয়ে ইফতার শেষ করা।

আরও পড়ুন:


এসআর