
বাজেটে কী কী সুবিধা পেলেন সাধারণ নাগরিক, কোন কোন খাতে কমলো খরচ?
শুরু হলো নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছর (New fiscal year 2026-27 in Bangladesh)। সরকারের সব ধরণের আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন থেকে নতুন বাজেটের আলোকেই পরিচালিত হবে। প্রতিবারের মতো এবারও জুন মাসে বাজেট ঘোষণার পর করদাতাসহ সাধারণ নাগরিকদের মনে প্রশ্ন ছিল এই বাজেট জীবনযাত্রার খরচ কতটা বাড়াবে কিংবা কমাবে। জুনের শেষ সপ্তাহে জাতীয় সংসদে বাজেট পাশের আগে কিছু প্রস্তাব সংশোধন ও প্রত্যাহার করা হয়েছে (Budget modification and withdrawal status)। যেমন, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন (TIN registration for bank account) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। পাশ হওয়া চূড়ান্ত বাজেট থেকে আপনি কী কী সুবিধা পেলেন এবং আপনার পকেটে এর কী প্রভাব পড়বে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

রাসিকের ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ১ হাজার ৯ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ৬৫ টাকা। আজ (মঙ্গলবার, ৩০ জুন) বিকেলে নগর ভবনের সিটি হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।

কৃষিখাতে বরাদ্দ আরও বাড়ানো জরুরি: রিজভী
দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো অপরিহার্য। বর্তমান বাজেটের আকার যে হারে বাড়ছে, কৃষি বাজেট সে তুলনায় বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

বাজেটে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বরাদ্দ পেল কত?
দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য মোট ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষার প্রসার ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই মেগা বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয় (Public University Budget Allocation in Bangladesh: How Much Did DU, BUET and 58 Universities Receive)।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাজেটের ৯৯ শতাংশই উন্নয়ন ব্যয়
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ দশমিক ১২ শতাংশ। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ায় উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ বেশি রাখা হয়েছে।

অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তাবিত বাজেট সন্তোষজনক: বিকেএমইএ
অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তাবিত বাজেটকে সন্তোষজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। বিকেএমইএ বলছে, এবারের বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের দুটি প্রধান প্রত্যাশা ছিলো করব্যবস্থার সংস্কার এবং চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানি সোলার সিস্টেমের আমদানি সহজীকরণ করা। দু’টি জায়গাতেই এ বাজেটে নেয়া পদক্ষেপসমূহ সন্তোষজনক।

বাজেটে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
বিএনপির প্রতি মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, বাজেটে মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ (শুক্রবার, ১২ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বড় বাজেট বাস্তবায়ন করাই সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ: সিপিডি
বাজেটের আকার বড়, এর আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করাই সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

কমেছে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়; অগ্রাধিকার অবকাঠামো-যোগাযোগ খাতে
প্রস্তাবিত বাজেট ২০২৬-২৭
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনতে ভৌত অবকাঠামো এবং যোগাযোগ খাতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে আসছে বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন পেলেও, আলাদা করে কোনো বরাদ্দ পায়নি বাজেটে। তবে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬০ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যতম অগ্রাধিকার খাল খনন কর্মসূচিসহ অন্য উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পেয়েছে।

২০২৬-২৭ বাজেট ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক মহলের
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। বাজেটকে জনবান্ধব আখ্যায়িত করে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন। অন্যদিকে জামায়াত বলছে, দুর্বল অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে এই বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এদিকে, অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চিন্তাশীল বাজেট হলেও বাস্তবায়নের আর্থিকভিত্তি দুর্বল। পরিচালন ব্যয়ের লাগাম টানাই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট; ঘাটতি মেটাতে বিপুল ঋণের শঙ্কা
৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বড় আকারের বাজেট দিয়েছে বিএনপি সরকার। যেখান মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির প্রায় ১০ দশমিক ২ শতাংশ। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি পূরণে বিদেশি ও দেশিয় উৎস থেকেই ঋণ ও সহায়তা নেবে সরকার। যদিও এর দায় মেটানো নিয়ে আছে শঙ্কা।

ক্রীড়াঙ্গন উন্নয়নে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
গতবছরের তুলনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ১৬৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এবার।