গ্যাস্ট্রিক ও বুক জ্বালা? ইফতারের টেবিলে যা এড়িয়ে চলবেন এবং যা খাবেন

সুস্থ ইফতারের খাবার তালিকা
সুস্থ ইফতারের খাবার তালিকা | ছবি: এখন টিভি
0

বছর ঘুরে আবার এলো সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র রমজান (Ramadan)। তবে দিনভর সিয়াম সাধনার পর ইফতারের টেবিলে অনেকেই খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। ফলে গ্যাস্ট্রিক (Gastritis), পেট ফাঁপা (Bloating), বুক জ্বালা (Heartburn) এবং দ্রুত ওজন বৃদ্ধি (Weight Gain)-র মতো স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারে আমাদের কিছু নিয়মিত ভুল অভ্যাসের কারণেই এসব শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।

ইফতারে করা সাধারণ কিছু ভুল (Common Mistakes in Iftar)

১. অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার (Excessive Fried Foods):

বেগুনি, পেঁয়াজু বা আলুর চপ ছাড়া আমাদের ইফতার যেন অপূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর ডুবো তেলে ভাজা খাবার (Deep Fried Foods) পাকস্থলীতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এটি হজমে বিঘ্ন ঘটায় এবং শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি (Excess Calories) চর্বি হিসেবে জমা করে ওজন বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন:

২. অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় (Sugary Beverages):

ইফতারে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই প্যাকেটজাত জুস বা কোমল পানীয় (Soft Drinks) পান করেন। এসবে থাকা অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar Level) হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, যা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দ্রুত ক্লান্তি ও ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মেদ বৃদ্ধির কারণ হয়।

৩. একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ (Overeating at Once):

রোজা ভাঙার পরপরই অনেকে একসঙ্গে প্রচুর খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে পাকস্থলী হঠাৎ অতিরিক্ত কাজের চাপের মুখে পড়ে বদহজম (Indigestion) ও বমি ভাব তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরে ধীরে এবং বিরতি দিয়ে খাবার খাওয়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

৪. ঝাল ও মসলাদার খাবার (Spicy and Masala Foods):

অতিরিক্ত ঝাল চাটনি বা মসলাযুক্ত খাবার অ্যাসিডিটির ঝুঁকি (Risk of Acidity) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এটি বুক জ্বালার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৫. প্রোটিন ও সবজির অভাব (Lack of Protein and Vegetables):

ইফতারের মেনুতে সাধারণত কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি বেশি থাকে, কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রোটিন (Protein) ও সবজি (Vegetables) থাকে না। এতে শরীর সঠিক পুষ্টি পায় না এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগার ফলে ওজন বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন:

ইফতারের পর করণীয় (Post-Iftar Habits)

অনেকে ইফতার করার পরপরই শুয়ে পড়েন। এই অভ্যাস এসিড রিফ্লাক্স (Acid Reflux) এবং ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। খাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা পর ঘুমানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

সুস্থ ইফতারের টিপস (Tips for Healthy Iftar)

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতার হওয়া উচিত হালকা ও পরিমিত। পানি ও খেজুর (Dates) দিয়ে রোজা ভেঙে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। ভাজাপোড়া ও চিনির বদলে মেনুতে দই, চিঁড়া, ফল এবং প্রচুর পানি (Hydration) রাখুন। এতে গ্যাস্ট্রিক ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

আপনার রমজানকে আরামদায়ক ও সুস্থ করতে গ্যাস্ট্রিক মুক্ত সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ ডায়েট চার্ট এবং ৫টি স্বাস্থ্যকর পানীয়র রেসিপি নিচে দেওয়া হলো:

১. গ্যাস্ট্রিক মুক্ত সেহরি ও ইফতারের ডায়েট চার্ট

খাবারের সময় (Meal Time) কী খাবেন (What to Eat) কেন খাবেন (Health Benefits)
ইফতারের শুরু ২-৩টি খেজুর ও ১ গ্লাস পানি তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় ও এসিডিটি কমায়।
ইফতার (হালকা) দই-চিঁড়া-কলা অথবা সবজি স্যুপ পেট ঠান্ডা রাখে এবং হজম সহজ করে।
ইফতার (মূল) লাল চালের ভাত, ডাল ও মাছের ঝোল ভাজাপোড়া না থাকায় বুক জ্বালা হয় না।
ইফতারের পর ডাবের পানি বা ফলের রস (চিনি ছাড়া) শরীরের পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট পূরণ করে।
সেহরি (মূল) ওটস/ভাত, ডিম ও প্রচুর সবজি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
সেহরির শেষ ১ কাপ টক দই বা ইসবগুলের ভুসি সারাদিন পেট ঠান্ডা ও কোষ্ঠকাঠিন্য মুক্ত রাখে।

আরও পড়ুন:

২. ইফতারে ৫টি স্বাস্থ্যকর ও সতেজ পানীয়র রেসিপি

পানীয়র নাম (Drink Name) উপকরণ (Ingredients) প্রস্তুতির নিয়ম (Preparation)
১. ডাব-পুদিনা শরবত ডাবের পানি ও পুদিনা পাতা ডাবের পানিতে পুদিনা ব্লেন্ড করে মিশিয়ে নিন।
২. বোরহানি (ঘরোয়া) টক দই, বিট লবণ ও পুদিনা সব উপকরণ ব্লেন্ড করুন; এটি হজমে সহায়ক।
৩. চিরার ঠান্ডা শরবত চিঁড়া, টক দই ও কলা ভেজানো চিঁড়া দই ও কলার সাথে মাখিয়ে নিন।
৪. তরমুজ-পুদিনা জুস তরমুজ ও পুদিনা পাতা তরমুজ ও পুদিনা ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিন।
৫. আপেল-শসা ডিটক্স আপেল, শসা ও পানি পানিতে ফল কুচি ভিজিয়ে রেখে ইফতারে পান করুন।

আরও পড়ুন:

এসআর