সিউল-ওয়াশিংটন পরমাণু সহযোগিতা আলোচনা; নজরে পরমাণুচালিত সাবমেরিন

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: রয়টার্স
0

নিজেদের পরিকল্পনামতো পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা লি জে মিউংয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গিয়েছে।

মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনর্ব্যবহারের (রিপ্রসেসিং) অধিকার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। মূলত নিজেদের নৌবাহিনীর জন্য পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির লক্ষ্যেই সিউলের এই তৎপরতা। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পার্ক ইল জানান, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পুনর্ব্যবহারের বিষয়টি বেসামরিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বর্তমান পরমাণু চুক্তি সংশোধনের সাথে জড়িত। তবে পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন যেহেতু সামরিক ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত, তাই মার্কিন জ্বালানি আইন অনুযায়ী এর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি চুক্তির প্রয়োজন হবে।

গত নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ দলিলে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, তারা দক্ষিণ কোরিয়ার শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিচালিত ‘অ্যাটাক সাবমেরিন’ তৈরির অনুমতি দিয়ে এর জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক গত মাসে জানিয়েছিলেন, ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে তারা প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিন চালু করতে চায়। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরমাণু চুল্লি ব্যবহার করলেও সামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা বা পারমাণবিক জ্বালানি পুনর্ব্যবহার করার অনুমতি তাদের নেই। উভয় দেশই এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এবং দ্রুত ফলাফল অর্জনে একমত হয়েছে।

এএম