Recent event

সেহরিতে কী খেলে সারাদিন ক্ষুধা ও তৃষ্ণা লাগবে না? জেনে নিন কার্যকরী কৌশল

সেহরিতে কি খাওয়া উচিত
সেহরিতে কি খাওয়া উচিত | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র রমজান মাসে (Month of Ramadan) সুস্থভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরির গুরুত্ব অপরিসীম। সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হয় বলে সেহরি (Suhoor) হতে হবে পরিকল্পিত ও স্বাস্থ্যকর। অনেকেই সারাদিন ক্ষুধার্ত থাকার ভয়ে সেহরিতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করেন, যা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, সেহরির খাবারে এমন কিছু উপাদান রাখা প্রয়োজন যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং শরীরকে দীর্ঘ সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি (Energy) সরবরাহ করে।

খাবারের ধরণ (Food Type) উপকারিতা ও উদাহরণ (Benefits & Examples)
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মাছ, মুরগির মাংস (চর্বিহীন), ডিম ও দই। এটি ধীরে শক্তি শোষণ করে।
ফাইবার ও পূর্ণ শস্য লাল চাল (Brown Rice), ওটস ও লাল আটার রুটি। এটি হজম প্রক্রিয়া ধীর করে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বাদাম, তিসি বীজ ও চিয়া সিড (Chia Seeds)। দীর্ঘক্ষণ সতেজ রাখে।
ফল ও সবজি কলা, তরমুজ, আপেল ও পেঁপে। এটি হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক ফাইবার ইসবগুলের ভুসি ও খেজুর। এটি গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে।

সেহরির আদর্শ খাবার ও গুণাগুণ (Ideal Suhoor Foods and Benefits)

সেহরিতে সঠিক খাবার নির্বাচন করলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী নিচের খাবারগুলো সেহরির তালিকায় রাখা জরুরি:

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার (Protein-rich Foods): সেহরিতে প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন ডিম, চর্বিহীন মাংস (Lean Meat), মাছ বা দই খেলে শরীর ধীরে ধীরে শক্তি শোষণ করে, ফলে তাড়াতাড়ি ক্ষুধা অনুভব হয় না।

আরও পড়ুন:

ফাইবার ও পূর্ণ শস্য (Fiber & Whole Grains): আঁশযুক্ত খাবার যেমন ওটস (Oats), লাল চাল (Brown Rice) বা লাল আটার রুটি দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এগুলোতে থাকা ফাইবার (Fiber) হজম প্রক্রিয়াকে ধীরগতিতে চালিত করে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (Healthy Fats): বাদাম, তিসি বীজ বা চিয়া সিড (Chia Seeds) সেহরিতে খেলে শরীর দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে।

ফলমূল ও সবজি (Fruits & Vegetables): বিশেষ করে কলা (পটাশিয়াম সমৃদ্ধ) এবং তরমুজ (পানি সমৃদ্ধ) সেহরির জন্য উপযোগী। আপেল, কমলা ও পেঁপে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ করে শরীরকে হাইড্রেটেড (Hydrated) রাখে।

প্রাকৃতিক আঁশ ও ইসবগুল: ইসবগুলের ভুসি পানি শোষণ করে পেট পূর্ণ রাখতে সাহায্য করে, যা প্রাকৃতিক ফাইবার হিসেবে ক্ষুধা কমায়।

আরও পড়ুন:

দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকার বিশেষ টিপস (Special Tips for Long-lasting Freshness)

১. কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: ভাতের মধ্যে রয়েছে জটিল শর্করা (Complex Carbohydrates), যা দেরিতে হজম হয় এবং পেট অনেকক্ষণ ভরা রাখতে সাহায্য করে।

২. হাইড্রেটেড থাকা: তৃষ্ণা ও পানিশূন্যতা রোধে সেহরির সময় পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। খাবার শুরুর আগে এক গ্লাস পানি পান করা এবং ইফতার ও সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

৩. সুন্নতি খাবার খেজুর: সেহরিতে অন্তত ১-২টি খেজুর (Dates) খেলে এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্রুক্টোজ রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাকে (Glucose Level) ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৪. দুগ্ধজাত খাবার: দুধ ও দই ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। দই পেটে থাকা খাবার দীর্ঘ সময় ধরে হজম হতে সাহায্য করে, যা ক্ষুধা কমাতে সহায়ক।

৫. স্বাস্থ্যকর শুরু: সেহরি বা ইফতার শুরু করতে পারেন পুষ্টিকর স্যুপ (Soup) দিয়ে। এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস আপনার রোজাকে করবে সহজ, ক্লান্তিহীন এবং প্রাণবন্ত। তাই ভাজাপোড়া এড়িয়ে সেহরিতে পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবার গ্রহণ করুন।

আরও পড়ুন:

সুষম সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ ডায়েট চার্ট (Healthy Ramadan Diet Plan)

সময় (Time) খাদ্য তালিকা ও মেন্যু (Food Menu) কেন খাবেন? (Reason)
সেহরি (Suhoor) লাল চালের ভাত, চর্বিহীন মুরগির মাংস/মাছ, প্রচুর সবজি, ১টি কলা এবং ১ গ্লাস দুধ বা দই। জটিল শর্করা ও প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং শক্তি যোগায়।
ইফতারের শুরু (Iftar Start) ১-২টি খেজুর, ১ গ্লাস লেবুর শরবত বা ডাবের পানি এবং সামান্য ফল। তাৎক্ষণিক এনার্জি ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখে।
প্রধান ইফতার (Main Iftar) দই-চিড়া, স্যুপ অথবা ওটস। সাথে থাকতে পারে সেদ্ধ ছোলা বা হালকা মুড়ি। সহজপাচ্য খাবার পাকস্থলীকে আরাম দেয় এবং হজমে সহায়তা করে।
রাতের খাবার (Dinner) হালকা ভাত বা রুটি, ডাল এবং মিশ্র সবজি। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার পরিহার্য। গভীর ঘুমের আগে শরীরকে পুষ্টি দেয় এবং মেটাবলিজম ঠিক রাখে।
মধ্যরাত (Hydration) অল্প অল্প করে পানি পান করা এবং ভেজানো তোকমা বা ইসবগুলের ভুসি। শরীরের পানিশূন্যতা রোধ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:

সেহরি নিয়ে গুরুত্বপূণ প্রশ্ন-উত্তর (Q&A)

ক্রমিক প্রশ্ন (Search Query) উত্তর (Brief Answer)
সেহরিতে কি খেলে তৃষ্ণা লাগবে না? (How to avoid thirst?) ডাবের পানি, দই এবং শসা বা তরমুজ জাতীয় পানি সমৃদ্ধ খাবার খেলে তৃষ্ণা কম লাগে।
ক্ষুধা কমানোর সেরা সেহরি কি? (Best food to reduce hunger) লাল চালের ভাত বা ওটস (Oats); এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
সেহরিতে কয়টি খেজুর খাওয়া উচিত? (How many dates in Suhoor?) অন্তত ২-৩টি; এটি রক্তের গ্লুকোজ লেভেল ঠিক রেখে সারাদিন এনার্জি যোগায়।
সেহরিতে চা বা কফি খাওয়া কি ঠিক? (Tea/Coffee in Suhoor?) না; ক্যাফেইন শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য (Dehydrated) করে দেয়, ফলে তৃষ্ণা বাড়ে।
সেহরিতে কোন মাংস ভালো? (Which meat is best?) চর্বিহীন মুরগির মাংস (Lean Chicken); এটি প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে ধীরে হজম হয়।
সেহরিতে কি ডিম খাওয়া যাবে? (Eating eggs in Suhoor?) হ্যাঁ; ডিম প্রোটিনের পাওয়ারহাউস, যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
তৃষ্ণা কমাতে কি ইসবগুল কাজ করে? (Isabgol for thirst?) হ্যাঁ; ইসবগুল পানি ধরে রাখে এবং পেট ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
সেহরিতে কলা খাওয়ার উপকারিতা কি? (Benefits of Banana) কলায় থাকা পটাশিয়াম (Potassium) শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক রাখে।
ভাজাপোড়া কি সেহরিতে খাওয়া যায়? (Fried foods in Suhoor?) একদমই না; এটি বুক জ্বালাপোড়া এবং চরম তৃষ্ণা সৃষ্টি করে।
১০ সেহরিতে কতটুকু পানি পান করা উচিত? (Water amount) একবারে অনেক বেশি না খেয়ে সেহরির সময় ২-৩ গ্লাস পানি অল্প অল্প করে পান করুন।
১১ ডায়াবেটিস রোগীদের সেহরি কেমন হবে? (Suhoor for diabetics) জটিল শর্করা ও আঁশযুক্ত খাবার যেমন লাল আটার রুটি বা সবজি বেশি খেতে হবে।
১২ সেহরিতে দই কেন খাবেন? (Why eat yogurt?) দই পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে এবং বদহজম ও তৃষ্ণা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
১৩ ওজন কমাতে সেহরিতে কি খাবেন? (Suhoor for weight loss) প্রচুর প্রোটিন এবং কম ক্যালোরিযুক্ত সবজি ও ফলমূল।
১৪ সেহরির কতক্ষণ পর ঘুমানো উচিত? (Sleeping after Suhoor) অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট পর; খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমালে হজমের সমস্যা হয়।
১৫ সেহরিতে লবণাক্ত খাবার কি ক্ষতিকর? (Salty foods) হ্যাঁ; অতিরিক্ত লবণ শরীর থেকে পানি শুষে নেয় এবং তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয়।

এসআর