শিশুদের সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে দেখে আসছে চীন সরকার। তারা বিশ্বাস করে শিশুরা হচ্ছে ছোট চারাগাছের মতো। যাদের সঠিক যত্ন করলে একদিন বিশাল বৃক্ষে পরিণত হবে। বেইজিংয়ের একটি স্কুলে শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই শিশুদের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যার মধ্যে লুকিয়ে আছে আধুনিক চীনের রাষ্ট্রীয় দর্শন।
শুধু তাই নয় চীন সরকার বিশ্বাস করে, কোনো দেশের ভবিষ্যৎ শুধু খনিজ সম্পদ, সামরিক শক্তি বা অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে তার পরবর্তী প্রজন্ম কতটা দক্ষ, শিক্ষিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে তার ওপর। শি জিনপিংয়ের মতে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের চীনের মেরুদণ্ড।
আরও পড়ুন
শিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দর্শনে বিশ্বাসী শি জিনপিং। রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজ শিল্পে চীনের আধিপত্য গড়ে উঠেছে কয়েক দশকের শিক্ষা, গবেষণা ও শিল্পের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে। বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন, যুদ্ধবিমান কিংবা উন্নত রাডার প্রযুক্তির জন্য এ খনিজ পদার্থ অপরিহার্য।
উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে প্রতি বছর শত শত তরুণ ভর্তি হয় রেয়ার আর্থ বিষয়ে পড়াশোনা করতে। বিশ্বের অনেক দেশে যেখানে এই বিষয়ে বিশেষায়িত স্নাতক ডিগ্রিই নেই, সেখানে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি প্রোগ্রাম। শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষে নয়, তারা সরাসরি গবেষণাগার, খনি ও শিল্পকারখানার সঙ্গে যুক্ত।
ফলাফলও স্পষ্ট। চীন যত দ্রুত এই শিল্পকে কাজে লাগাতে পারছে, সে তুলনায় অন্যান্য দেশগুলো তা পারছে না। পশ্চিমা দেশ বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিরল খনিজের জন্য এখনো অনেকাংশে চীনের ওপর নির্ভরশীল। এই শিল্পের গবেষণার কাজেও চীন থেকে অন্য দেশগুলো পিছিয়ে আছে। যা বর্তমানে চীনের শুধু খনিজ সম্পদ নয়; এটি কৌশলগত শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
তবে শি জিনপিংয়ের শিশুদের উদ্দেশে দেয়া বার্তা এবং রেয়ার আর্থ খাতে চীনের উত্থান— দুই ঘটনাই আসলে একই কৌশলের দুটি দিক। এরমধ্যে দিয়ে ইতিহাস হয়তো আবারও নতুন এক বৈশ্বিক শক্তির উত্থান দেখছে। তবে এবার নেতৃত্বের লড়াই কেবল অস্ত্র বা অর্থের নয়; এটি জ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং আগামী প্রজন্মকে ঘিরে গড়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের গল্প।




