খামেনির বিদায়ে শোককে শক্তিতে বদলাচ্ছে ইরান

খামেনির বিদায়ে ইরানিরা
খামেনির বিদায়ে ইরানিরা | ছবি: বিবিসি
0

চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকসভা চিরস্মরণীয় করে রাখতে চাইছে তেহরান। যার মধ্য দিয়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করতে চাইছে দেশটি। এমনকি প্রিয় নেতার রক্ত বৃথা যেতে দেবে না বলে দেয়া হয়েছে হুঁশিয়ারিও। তবে কী যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় খামেনির জানাজা ও দাফনপ্রক্রিয়া শুরু মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই আরও জোরালো করলো ইরান?

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। চার দশক শুধু ইরানই শাসন করেননি; বরং বদলে দিয়েছিলেন গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ। বক্তব্য দিয়ে শত্রুদের বুকে কাঁপন ধরাতেন তো বটেই; সক্রিয় হয়ে উঠতো লেবানন, গাজা, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মিত্র গোষ্ঠীগুলো। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চক্ষুশূল হয়ে উঠেন। সেই চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আক্রমণেই ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হন বিশ্বের শিয়া সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ এই ধর্মীয় নেতা। তাইতো চার মাস পর ইরানের প্রিয় এই নেতার চিরবিদায় ঘিরে সাত দিনের আনুষ্ঠানিকতা এখন বিশ্ব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনপ্রক্রিয়া এমন এক সময় চলছে; যখন ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। চরম অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও প্রিয় নেতায় চিরবিদায় জানাতে খরচের কোনো কমতি রাখছে না তেহরান।

এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল যুদ্ধের পরও; শোককে শক্তিতে পরিণত করে তেহরান তাদের শত্রুদের আরও কড়া বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস ছাড়াও; আরবি মহররম মাসে খামেনির জানাজার আয়োজন করায় ধর্মীয়ভাবেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই মাসেই শহিদ হয়েছিলেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন। যার কারণে মহররম মাসটি শিয়া সম্প্রদায় ছাড়াও গোটা মুসলিম উম্মাহর কাছে অনেক আগে থেকেই বিশ্বাসঘাতকতা, শাহাদাত এবং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার গভীর বার্তা বহন করে।

ইরান তাদের সর্বোচ্চ নেতার রক্ত বৃথা যেতে দেবে না। এমন হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন দেশটির স্পিকার বাঘের গালিবাফ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জেগে উঠতে হবে এবং এই জাতির চিৎকার বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। যাতে বিশ্ব জানতে পারে, ইরানের মহান জাতি দমনের মুখে নীরব থাকে না এবং তারা তাদের ইমামের রক্ত বৃথা যেতে দেবে না।’

আরও পড়ুন:

এমন পরিস্থিতিতে সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক সিনা তুসির মনে করছেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হত্যাকাণ্ডে খামেনিকে জীবিত অবস্থার চেয়েও মৃত্যুর পর প্রতীকীভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে। কারণ একজন শহিদ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ইরানসহ গোটা শিয়া সম্প্রদায়ের কাছে অমর হয়ে থাকবেন খামেনি।

শুক্রবার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে; শনিবার সকাল থেকে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তেহরান রূপ নেয় জনসমুদ্রে। নানা আনুষ্ঠানিকতার স্মরণ করা হচ্ছে প্রয়াত নেতাকে। ৯ তারিখ খামেনির জন্মস্থান মাশহাদ শহরের ইমাম রেজার মাজারে দাফনের আগ পর্যন্ত; তেহরান, মাশহাদ ও কোম শহরে ধারাবাহিকভাবে চলবে চিরবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। শেষ শ্রদ্ধা জন্য ইরানের তিনটি শহর ছাড়াও কফিন বন্দি নিথর দেহ নেয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র স্থান নাজাফ ও কারবালায়।

এর মধ্য দিয়ে ইরান ছাপিয়ে; বহুজাতিক শোকের মুহূর্ত হয়ে উঠেছে খামেনির শেষযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা। যার মধ্য দিয়ে শহিদ নেতাকে নিজেদের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রাখতে চাইছে ইরান।

এসএস