নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের চরম উৎকণ্ঠা, প্রজ্ঞাপন কবে?

পে স্কেল
পে স্কেল | ছবি: এখন টিভি
0

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘৯ম জাতীয় বেতন কাঠামো’ বা নতুন পে-স্কেল প্রজ্ঞাপন ও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ১১ বছরেরও বেশি সময় পার হতে চললেও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক গেজেট (Official Gazette of 9th Pay Scale) এখনো প্রকাশ না হওয়ায় এই উৎকণ্ঠা দিন দিন বাড়ছে (New Pay Scale 2026 Latest Update Bangladesh)।

আরও পড়ুন:

৩ ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব: কর্মচারী সংগঠনগুলোর তীব্র বিরোধিতা (3 Phases Implementation of New Pay Scale)

অর্থ মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারণী উচ্চপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাজেটের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বিবেচনা করে সরকার একযোগে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন না করে তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার (Plan to Implement New Pay Scale in Three Phases) চিন্তাভাবনা করছে।

প্রস্তাবিত রূপরেখা অনুযায়ী:

প্রথম বছর (১ জুলাই ২০২৬ থেকে): সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের (Basic Salary) একটি নির্দিষ্ট অংশ (সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত) বৃদ্ধি করা হতে পারে।

দ্বিতীয় বছর (২০২৭-২৮ অর্থবছর): মূল বেতনের বাকি অংশ পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

তৃতীয় বছর (২০২৮-২৯ অর্থবছর): বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্য সব ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতাভুক্ত করা হবে।

তবে সরকারের এই ধাপে ধাপে বা আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করছেন বিভিন্ন চাকুরিজীবী ফোরাম ও কর্মচারী সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবি, বর্তমান আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে (High Inflation and Living Cost Bangladesh) ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি বাস্তব জীবনের আর্থিক চাপ কমাতে পর্যাপ্ত হবে না। তারা অন্তর্বর্তীকালীন কোনো ব্যবস্থা না রেখে এক ধাপে শতভাগ নতুন পে স্কেল কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

নতুন পে স্কেলে প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো (Proposed Minimum and Maximum Basic Salary)

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পে কমিশনের খসড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নতুন পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বেতন বৈষম্য কমানোর সুপারিশ এসেছে। প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে:

সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড): বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব (Proposed Minimum Salary 20,000 Taka) করা হয়েছে (যা প্রায় ১৪০% বৃদ্ধি)।

সর্বোচ্চ মূল বেতন (১ম গ্রেড): বর্তমানের ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ (Proposed Maximum Salary 1,60,000 Taka) রয়েছে।

অন্যান্য গ্রেড: গ্রেড ভেদে কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

আরও পড়ুন:

১ জুলাই থেকে কার্যকরের ডেডলাইন: জুনের মধ্যেই কি প্রজ্ঞাপন? (9th National Pay Scale Effective Date)

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা রাখা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো (New Pay Scale Effective from July 1) আংশিকভাবে কার্যকর করার কথা রয়েছে।

তবে বড় আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে হলে চলতি জুন মাসের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। জুনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে অ্যাকাউন্টস ও অন্যান্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে দিন যত যাচ্ছে, চাকরিজীবীদের প্রতীক্ষার প্রহর ও উৎকণ্ঠা ততই দীর্ঘ হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

একনজরে নতুন বেতন কাঠামো (৯ম পে স্কেল) বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, গ্রেড ও আপডেট

বিষয় ও গ্রেড (Topic & Grade) প্রস্তাবিত পরিবর্তন ও রূপরেখা (Proposed Changes) সর্বশেষ আপডেট (Latest Status)
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
(Implementation Method)
আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় একযোগে নয়, বরং ৩টি ধাপে (মূল বেতন ও ভাতা ক্রমান্বয়ে) কার্যকর করার সরকারি চিন্তাভাবনা। উৎকণ্ঠা ও বিরোধিতা
সর্বনিম্ন মূল বেতন
(Minimum Basic - 20th Grade)
বিদ্যমান সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ ও প্রস্তাবনা। ১৪০% বৃদ্ধির প্রস্তাব
সর্বোচ্চ মূল বেতন
(Maximum Basic - 1st Grade)
বিদ্যমান সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার খসড়া পরিকল্পনা। ১,৬০,০০০ টাকা (প্রস্তাবিত)
কার্যকরের সম্ভাব্য তারিখ
(Expected Effective Date)
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো চালুর আলোচনা। ১ জুলাই, ২০২৬
প্রজ্ঞাপন বা গেজেট
(Official Gazette Notification)
প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা এড়াতে চলতি জুন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির আইনি বাধ্যবাধকতা। এখনো অপেক্ষমাণ
দাবি ও প্রতিক্রিয়া: কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতারা ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করে এক ধাপে শতভাগ নতুন পে স্কেল কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি সাধারণ চাকরিজীবীদের।

এসআর