নতুন পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ জানালেন অর্থমন্ত্রী

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে: অর্থমন্ত্রী | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকুরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সুখবর দিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Finance and Planning Minister Amir Khosru Mahmud Chowdhury)। সোমবার (১৮ মে) নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেল (9th National Pay Scale) বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে। কীভাবে সবচেয়ে উত্তম উপায়ে এটি কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়ন কমিটি (New Pay Scale Effective From July 1 Confirms Finance Minister) নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister Tarique Rahman) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার (Budget Constraints) কারণে বেতন কমিশনের সব সুপারিশ একবারে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

৩ ধাপে যেভাবে বাড়বে আপনার বেতন: হিসাবের সহজ উদাহরণ (Calculation Example of Phase-Wise Salary Increment)

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর শুধুমাত্র বর্ধিত মূল বেতন এবং তৃতীয় বছরে গিয়ে নতুন ভাতা দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ:

প্রথম বছর (১ জুলাই ২০২৬ থেকে): কোনো কর্মকর্তার বর্তমান মূল বেতন (Basic Salary) ৫০,০০০ টাকা এবং নতুন কাঠামোয় তা ১,০০,০০০ টাকা হলে, প্রথম ধাপে বর্ধিত অংশের ৫০% কার্যকর হবে। অর্থাৎ, তিনি জুলাই থেকে মূল বেতন পাবেন ৭৫,০০০ টাকা। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা আগের নিয়মেই থাকবে।

দ্বিতীয় বছর (১ জুলাই ২০২৭ থেকে): ওই কর্মকর্তা নতুন কাঠামোর পূর্ণ মূল বেতন অর্থাৎ ১,০০,০০০ টাকা পেতে শুরু করবেন।

তৃতীয় বছর (১ জুলাই ২০২৮ থেকে): মূল বেতনের পাশাপাশি নতুন বেতনকাঠামো অনুসারে বাড়িভাড়া (House Rent) ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।

অর্থমন্ত্রীর বিশেষ বক্তব্য: "আমাদের বাজেটের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের (Revenue Collection) অবস্থাও আশাব্যঞ্জক নয়। অর্থনীতির এই কঠিন পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে কাটছাঁট করতে হলেও সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।"

আরও পড়ুন:

সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা (Proposed Minimum and Maximum Salary)

জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের মূল বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকুরির বিদ্যমান ২০টি গ্রেড (20 Salary Grades) অপরিবর্তিত রেখেই বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে:

সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড): বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ মূল বেতন (১ম গ্রেড): বর্তমান ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে নির্ধারিত ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বেতনের অনুপাত হ্রাস: সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের বৈষম্য কমাতে অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ নির্ধারণের ঐতিহাসিক প্রস্তাব করা হয়েছে।

বৈশাখি ও যাতায়াত ভাতার বড় আপডেট (Update on Baishakhi and Conveyance Allowance)

বৈশাখি উৎসব ভাতা: সরকারি চাকরিজীবীরা এত দিন মূল বেতনের ২০ শতাংশ বৈশাখি ভাতা পেতেন। নতুন সুপারিশে এটি বাড়িয়ে একলাফে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

যাতায়াত ভাতা: আগে এই সুবিধা ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা পেতেন। নতুন নিয়মে এটি পরিধি বাড়িয়ে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

পেনশনভোগীদের জন্য শতভাগের বেশি বৃদ্ধির সুখবর (Pension Benefits and Senior Citizen Medical Allowance)

কর্মরতদের পাশাপাশি দেশের ৯ লাখ পেনশনভোগীর (Pensioners) জন্যও থাকছে বিশাল সুখবর। পেনশনের হার বৃদ্ধির প্রস্তাবনাগুলো হলো:

১. মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পেলে তা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।

২. ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশনে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

৩. বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতা: ৭৫ বছরের বেশি বয়সীরা মাসিক ১০,০০০ টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীরা ৮,০০০ টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনধারীরা ৫,০০০ টাকা করে বিশেষ চিকিৎসা ভাতা (Medical Allowance) পাবেন।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করছেন, বর্তমান পুঞ্জীভূত মূল্যস্ফীতির (Accumulated Inflation) বাজারে এই বেতন বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে। তবে এর পাশাপাশি সরকারি কাজে অধিকতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রশাসনিক সংস্কার (Administrative Reform) নিশ্চিত করা জরুরি।

মোট কত টাকা ব্যয় হবে সরকারের? (Total Expenditure for New Pay Scale)

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো সম্পূর্ণ রূপে বাস্তবায়ন করতে সরকারের মোট ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে। এর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের অতিরিক্ত পেনশন (Additional Pension) বাবদ আরও প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা লাগবে। সব মিলিয়ে সরকারের সম্ভাব্য মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

আগামী ২১ মে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন কমিটির একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখান থেকে এই প্রজ্ঞাপন ও নীতিমালার চূড়ান্ত ফয়সালা (Final Decision on Gazette) প্রকাশ পাবে।

একনজরে নবম পে-স্কেলের ৩ ধাপের বাস্তবায়ন ও বেতন কাঠামো (Quick Guide: 3-Phase Pay Scale Structure)

বাস্তবায়ন বছর ও ধাপ (Implementation Phase) বেতন ও ভাতার প্রাপ্তি (Salary & Allowance Benefits) কার্যকর হওয়ার তারিখ (Effective Date)
প্রথম ধাপ (১ম বছর) নতুন বেতনকাঠামোর বর্ধিত অংশের ৫০% মূল বেতন হিসেবে যুক্ত হবে। আনুষঙ্গিক ভাতা পূর্বের নিয়মেই থাকবে। ১ জুলাই ২০২৬
দ্বিতীয় ধাপ (২য় বছর) নতুন বেতনকাঠামোর পূর্ণ ১০০% মূল বেতন (যেমন: সর্বনিম্ন ২০,০০০ এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা) দেওয়া হবে। ১ জুলাই ২০২৭
তৃতীয় ধাপ (৩য় বছর) পূর্ণাঙ্গ মূল বেতনের পাশাপাশি নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, বৈশাখী (৫০%) ও যাতায়াত ভাতা কার্যকর হবে। ১ জুলাই ২০২৮

আরও পড়ুন:

পে স্কেল ২০২৬ আজকের খবর | নতুন পে স্কেল বেতন কাঠামো | নতুন পে স্কেল

এসআর