সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। কমিটির মূল দায়িত্ব হবে 'জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫'-এর সুপারিশমালা সুনিপুণভাবে পর্যালোচনা করে দ্রুত সরকারের কাছে কার্যকর রূপরেখা বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা।
আরও পড়ুন:
গঠিত কমিটিতে যারা আছেন (9th Pay Scale Review Committee Member List)
অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে গঠিত এই উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচক কমিটিতে অন্যান্যদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে:
- কমিটির সভাপতি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Finance Minister)
সদস্যবৃন্দ:
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Home Minister)
- জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (Energy Minister)
- সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (Social Welfare Minister)
- আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান (Law Minister)
- অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর (Finance Advisor)
- জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী (State Minister for Public Administration & Food)
আরও পড়ুন:
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি প্রয়োজন মনে করলে নতুন কোনো বিশেষজ্ঞকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটিকে সব ধরনের সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
এর আগে ২১ এপ্রিল সরকারের সচিব কমিটির মাধ্যমে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়। ইতোপূর্বে সুপারিশকৃত প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক চাপ ও নতুন স্কেল বাস্তবায়নের অগ্রগতি (Economic Pressure & Implementation Progress)
বিশ্ববাজার ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সাময়িক সংকটের মধ্যেও সরকার নতুন বেতন কাঠামো উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, এলএনজি ও এলপিজি ক্রয়ে বাড়তি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ তৈরি হলেও পে স্কেলের প্রস্তুতি থেমে নেই।
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার বাড়তি বরাদ্দ প্রয়োজন হবে। তবে এই আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন যে, গেজেট প্রকাশের কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
আরও পড়ুন:
আইএমএফ ঋণ ও পে স্কেল গেজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য (IMF Loan & Pay Scale Gazette Clarification)
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান:
- গেজেট প্রকাশ: নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ শেষ ধাপে রয়েছে। মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পরপরই প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
- আইএমএফের শর্তাবলি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ঋণ প্রাপ্তির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "আইএমএফের ঋণের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর কোনো বিপরীতমুখী সম্পর্ক নেই। নতুন বেতন কাঠামো সময়মতোই বাস্তবায়িত হবে এবং প্রজ্ঞাপন প্রকাশে খুব বেশি বিলম্ব হবে না।"
উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল (8th Pay Scale) ঘোষণার দীর্ঘ এক যুগ পর ২০২৫ সালে নবম পে স্কেলের সুপারিশ জমা হয়। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই কার্যকরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
আরও পড়ুন:
নবম পে স্কেল: অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ মন্ত্রীকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন, গেজেট নিয়ে বড় আপডেট
একনজরে নবম পে স্কেল পর্যালোচনা কমিটির সদস্য তালিকা, সুপারিশ, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ও গেজেটের হালনাগাদ তথ্য
কমিটির সভাপতি
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (অর্থমন্ত্রী)
উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
কমিটির সদস্যবৃন্দ
• সালাহউদ্দিন আহমদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)
• ইকবাল হাসান মাহমুদ (জ্বালানিমন্ত্রী)
• অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (সমাজকল্যাণমন্ত্রী)
• মো. আসাদুজ্জামান (আইনমন্ত্রী)
• ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর (অর্থ উপদেষ্টা)
• মো. আব্দুল বারী (জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী)
প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে
মূল দায়িত্ব ও লক্ষ্য
জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫, জাতীয় বেতন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশমালা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রূপরেখা ও সুপারিশ পেশ করা।
অর্থ বিভাগ সাচিবিক সহায়তা দেবে
প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ রয়েছে।
১২ বছর পর বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ
গেজেট ও আইএমএফ ঋণ সংক্রান্ত স্পষ্টীকরণ
• গেজেট প্রকাশ: কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ।
• আইএমএফ ঋণ: নতুন বেতন কাঠামোর সাথে আইএমএফ ঋণের কোনো সম্পর্ক নেই বলে নিশ্চিত করেন অর্থমন্ত্রী।
দ্রুততম সময়ে গেজেট জারির পরিকল্পনা
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
জ্বালানি তেল, এলএনজি ও এলপিজি ক্রয় এবং ভর্তুকিসহ বিৃশ্ববাজারের অস্থিরতার মাঝেও চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিষয় / ক্যাটাগরি (Topic)
বিবরণ ও মূল তথ্য (Details)
বিশেষ মন্তব্য (Note)
আরও পড়ুন:



