নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কী এ বছরই? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

পে স্কেল
পে স্কেল | ছবি: এখন টিভি
0

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল কাঙ্ক্ষিত ও প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল (9th Pay Scale) বাস্তবায়নে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সময় পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ নাকচ করে আগামী অক্টোবরে আইএমএফের বার্ষিক সভার আগেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে (9th National Pay Scale Gazette Update)।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন:

দীর্ঘ এক যুগ পর নতুন বেতন কাঠামো (Pay Scale Update After 12 Years)

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। পরবর্তীতে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও কোনো নতুন স্কেল দেওয়া হয়নি। এর ফলে চলমান মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে নতুন পে স্কেলের দাবি দীর্ঘদিনের।

  • পে কমিশনের সুপারিশ (Pay Commission Report): ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জমা দেওয়া কমিশনের প্রতিবেদনে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • প্রস্তাবিত বেতন স্কেল: সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
  • পুনর্বিবেচনা কমিটি: ২১ এপ্রিল গঠিত নতুন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পে স্কেলের সার্বিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:

অতীতের পে স্কেল বনাম বর্তমান পরিবর্তন (History of Pay Scales in Bangladesh)

স্বাধীনতার পর দেশে এখন পর্যন্ত ৮টি পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন মেয়াদে বেতন বৃদ্ধির হার নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ১ম পে স্কেল (১৯৭৩): সর্বনিম্ন ১৩০ টাকা — সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা।
  • ২য় পে স্কেল (১৯৭৭): সর্বনিম্ন ২২২৫ টাকা (৭৩% বৃদ্ধি) — সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা।
  • ৩য় পে স্কেল (১৯৮৫): সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা (১২২% বৃদ্ধি) — সর্বোচ্চ ৬,০০০ টাকা (দ্বিগুণ)।
  • ৪র্থ পে স্কেল (১৯৯১): সর্বনিম্ন ৯০০ টাকা (৮০% বৃদ্ধি) — সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা।
  • ৫ম পে স্কেল (১৯৯৭): সর্বনিম্ন ১,৫০০ টাকা (৬৭% বৃদ্ধি) — সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা।
  • ৬ষ্ঠ পে স্কেল (২০০৫): সর্বনিম্ন ২,৪০০ টাকা (৬০% বৃদ্ধি) — সর্বোচ্চ ২৩,০০০ টাকা।
  • ৭ম পে স্কেল (২০০৯): সর্বনিম্ন ৪,১০০ টাকা — সর্বোচ্চ ৪০,০০০ টাকা।
  • ৮ম পে স্কেল (২০১৫): সর্বনিম্ন ৮,২৫০ টাকা (১০১% বৃদ্ধি) — সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা (৯৫% বৃদ্ধি)।

আরও পড়ুন:

আইএমএফের আপত্তি ও সরকারের ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কৌশল (IMF Reaction and Implementation Strategy)

নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েক লাখ পেনশনভোগী উপকৃত হবেন। তবে এর ফলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত ব্যয় অন্তত ৮২ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাবে, যা বর্তমান বাজেটের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।

  • আইএমএফের সুপারিশ: বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে আইএমএফ বাস্তবায়ন অন্তত ২ বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।
  • সরকারের সিদ্ধান্ত: আইএমএফের পরামর্শ গ্রহণ না করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন শেষে গেজেট জারির মাধ্যমে এই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন:

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে স্কেল কবে? বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে যা জানা গেলো

একনজরে নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সীমা, প্রস্তাবিত বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, গেজেট ও বাজেটের সর্বশেষ আপডেট

বিষয় / তথ্য ক্যাটাগরি বিস্তারিত তথ্য ও নির্দেশিকা

বাস্তবায়ন ও অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য তারিখ
(Implementation & Payment Date)

কার্যকরের সম্ভাব্য তারিখ: ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থ প্রদান: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী অক্টোবরের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন জমা হতে পারে।

প্রজ্ঞাপন ও গেজেট: মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি ও পে কমিশন
(Proposed Salary Scale & Commission)

সর্বনিম্ন মূল বেতন (২০তম গ্রেড): ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ মূল বেতন (১ম গ্রেড): ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

গড় বেতন বৃদ্ধি: বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০% থেকে ১৪২% পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে।

বাস্তবায়ন কৌশল ও আইএমএফ এর অবস্থান
(Implementation Strategy & IMF)

ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন: আর্থিক চাপ সামলাতে দুই বা তিন বছরে মূল বেতন ও ভাতাগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর হতে পারে।

আইএমএফের আপত্তির জবাব: আইএমএফ সময় পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সরকার তা নাকচ করে নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।

আওতাভুক্ত খাত ও বাজেট বরাদ্দ
(Covered Sectors & Budget Allocation)

আওতাভুক্ত কর্মচারীরা: সাধারণ প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বাজেট বরাদ্দ: নতুন পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নে বাজেটে বিশেষ থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

নবম জাতীয় পে স্কেল প্রজ্ঞাপন (9th Pay Scale Gazette publication), নবম পে স্কেলের সর্বশেষ আপডেট (9th Pay Scale latest update Bangladesh), সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন স্কেল (new pay scale for government employees BD), পে স্কেল ২০২৬ কার্যকরের তারিখ (Pay Scale implementation date 2026), নবম পে স্কেল গ্রেড ভিত্তিক বেতন (9th Pay Scale grade-wise basic salary)

এসআর