মার্কিন ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরান ছেড়ে পালাচ্ছে স্থানীয়সহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা। যুদ্ধের মাত্র দুই দিনেই তেহরান ছেড়েছে ১ লাখের বেশি মানুষ। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সীমান্ত হয়ে উঠেছে তেহরান ছাড়ার সবচেয়ে নিরাপদ রুট।
ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলা জোরদার করেছে ইসরাইল। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ হাজার লেবানিজ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে সিরিয়ায়। হামলার মুখে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের হাক্কারি প্রদেশের সীমান্ত দিয়ে তেহরান থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন তুরস্কের নাগরিকরা।
আরও পড়ুন:
যুদ্ধের মুখে তাফতান ও গোয়াদর সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ইরান থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থীসহ ৭৯২ জন পাকিস্তানি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। এমন অবস্থায় যথাযথ কাগজপত্রের অভাব থাকলেও সীমান্ত ক্রসিংয়ে বাধা দেয়া হচ্ছে না। দেশে ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তারা।
শুধু ইরান নয় আতঙ্ক বিরাজ করছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২০০ জনের ভারতীয় পর্যটকদের একটি দল নয়াদিল্লি ফিরেছে। আজারবাইজান সীমান্ত হয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে চীনের বেশ কয়েকজন নাগরিকদের।
এদিকে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের শতাধিক যাত্রী নিয়ে ওমান থেকে একটি বিমান গতকাল অবতরণ করে আমস্টারডামে। বুধবার গভীর রাতে দুবাই থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ১২২ জন পর্তুগিজ নাগরিকের একটি দল লিসবনে পৌঁছায়। এছাড়া ওমান থেকে একটি সামরিক বিমানে করে ১৭১ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে এনেছে স্পেন সরকার। মধ্যপ্রাচ্য বিভিন্ন দেশ থেকে বুলগেরিয়ার নাগরিকদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর আটকা পড়েছেন ২০ হাজার নাবিক ও ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের আক্রমণের ভয়ে এ অঞ্চলে সামুদ্রিক কার্যকলাপ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।





