এর পর থেকে অন্তত পাঁচবার শহরটির বিমানবন্দর বন্ধ রাখতে হয়েছে। তেল শোধনাগার ও জ্বালানি ডিপোতে ক্রমাগত হামলার ফলে দেশটিতে তীব্র পেট্রোল সংকট এবং নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইয়েকাতেরিনবুর্গের এক ছোট ব্যবসায়ী আনাতোলি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন। সবাই খাবার মজুত করতে ব্যস্ত। আমরা এক মহাবিপর্যয়ের অপেক্ষায় আছি।’ ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই আনাতোলি এবং তার পরিচিতরা এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, রাশিয়ায় এখন যা ঘটছে তা ‘অপ্রীতিকর হলেও প্রাপ্য’।
ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল দখলের জন্য রাশিয়ার গ্রীষ্মকালীন অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি দেখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখন স্থগিত হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে চাইছেন। গত মঙ্গলবার পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ২০২২ সালের ইস্তাম্বুল চুক্তির ভিত্তিতে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’ তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি পুতিনের একটি কৌশল মাত্র। জার্মানির ব্রেমেন ইউনিভার্সিটির গবেষক নিকোলে মিত্রোখিন বলেন, ‘২০২২ সালের শরতের পর এই প্রথম ইউক্রেনের সামনে যুদ্ধে জেতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পুতিন কেবল সময়ক্ষেপণের জন্য আলোচনার কথা বলছেন।’
ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ বিশ্লেষক সের্গেই মারকভ রাশিয়ার দাবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন। যার মধ্যে রয়েছে—ইউক্রেনকে ‘নাৎসিমুক্ত’ করা, সামরিক সক্ষমতা কমানো, ন্যাটোতে যোগ না দিয়ে ‘নিরপেক্ষ’ থাকা, রুশ ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ক্রিমিয়া ও ডনবাসের ওপর ইউক্রেনের অধিকার ত্যাগ করা। তবে কিয়েভ এই শর্তগুলোকে অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে রাশিয়ার ভেতরে সেনা পলায়নের ঘটনাও বাড়ছে। ‘ইদিতে লেসম’ নামক একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রণক্ষেত্রে অগ্রগতি যত কমছে, পালানো সেনার সংখ্যা ততই বাড়ছে।
মস্কো থেকে পালানো বাসিন্দারাও এখন নিরাপদ নন। রাজধানী থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরের গ্রামগুলোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোনের শব্দ এবং রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ফোরণ শোনা যাচ্ছে। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে হামলার পর শহরটিতে বিষাক্ত ‘তেল বৃষ্টি’ ঝরেছিল বলে জানান স্থানীয়রা। সুইডেনের কিল ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় ড্রোনের ক্রমাগত আঘাত রাশিয়ার অর্থনীতির ভিত্তি নড়বড়ে করে দিচ্ছে। অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ভেঙে না পড়লেও কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
রাশিয়ার এই করুণ দশায় ইউক্রেনীয়দের মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তিবোধ লক্ষ্য করা গেছে। কিয়েভের বাসিন্দা হানা ওনোপ্রিয়েঙ্কো বলেন, ‘রাশিয়ানরা যা ভোগ করছে তা আমাদের অভিজ্ঞতার মাত্র পাঁচ শতাংশ। তবুও তারা এখন বুঝতে পারছে যুদ্ধের ভয়াবহতা কেমন হয়।’





