সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

আইএস ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
আইএস ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা | ছবি: সংগৃহীত
0

সিরিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিসেম্বরে দেশটিতে থাকা দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষীর হত্যার বদলা নিতে আইএস নির্মূল অভিযানের অংশ হিসেবে এ হামলা বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আলেপ্পো ছেড়েছেন কুর্দি নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা। আহমেদ আল শারা প্রশাসন শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন বাস্তুচ্যুত মানুষেরা।

অপারেশন হক আই স্ট্রাইকের অংশ হিসেবে আবারও সিরিয়ার ৩৫টির বেশি আইএস লক্ষ্যবস্তুর ৯০টির বেশিতে নিখুঁত হামলা চালানোর দাবি করলো যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রবাহিনী ২০টিরও বেশি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এ অভিযানে অংশ নেয়। শনিবার এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার পালমিরায় আইএসের হামলায় দুই সেনাসহ তিন মার্কিন নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নিতে এসব হামলা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন। অপারেশন হক আই স্ট্রাইক নামে ১৯ ডিসেম্বর সিরিয়ার ৭০টি আইএস লক্ষ্যবস্তুতে এ অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

সবশেষ হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫ আইএস যোদ্ধাকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। দেশ থেকে আইএস নির্মূলে মার্কিন অভিযানে সহায়তা করছে সিরিয়ার আহমেদ আল শারা প্রশাসনও।

এদিকে কয়েক দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো ছেড়ে গেছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস-এসডিএফ। সরকারি বাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাসে করে যোদ্ধাদের সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে আলেপ্পোতে এসডিএফের সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটলো।

আরও পড়ুন:

আলেপ্পো এসডিএফ যোদ্ধামুক্ত হওয়ার এই খবর দিয়েছেন শহরটির গভর্নর আজ্জাম আল-ঘারিব। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে এসডিএফ-ও। এতে খুশি সাধারণ মানুষ। জীবন রক্ষায় পালিয়ে যাওয়া মানুষেরাও নিজ বাসস্থানে ফিরতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমরা এসডিএফ যোদ্ধাদের গোলাবর্ষণ হতে মুক্তি পেয়েছি। সেনাবাহিনী কুর্দিদের সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করেছে। এটি আলেপ্পোবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের খবর। আলেপ্পোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসুক।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আহমেদ আল শারা প্রশাসনে ঠাই না হওয়ায় মূলত ক্ষিপ্ত কুর্দিরা। এখন কুর্দি যোদ্ধারা আলেপ্পো থেকে সরে গেলেও সরকারে তাদের যুক্ত করার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে এখনও রয়েছে। আবারও সংঘাত মাথাচারা দিয়ে ওঠে কিনা তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। মাঝখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ৪দিনের মাথায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও কুর্দি ও সরকারি বাহিনী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ছিলো। প্রাণ ঝরেছে অন্তত ৩০ জনের। বাস্তুচ্যুত দেড় লাখের বেশি।

ইএ