ইরানে হামলার বিষয় ‘গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন’ ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: দ্যা গার্ডিয়ান
0

বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে ইরানে হামলার কথা ‘গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন’ ট্রাম্প। কীভাবে হামলা করা যায়, সে বিষয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নেতানিয়াহুর সঙ্গে গোপন ফোনালাপও সেরেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও। সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস-সহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে ওঠে এসেছে এসব তথ্য। এতে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠার শঙ্কা বাড়ছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সাপে নেউলে সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। গত বছরের জুনে তেল আবিবের সমর্থনে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলাও চালায় ওয়াশিংটন। বর্তমানে তেহরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায়ও প্রতিদিন নাক গলাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি'র ডাকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনি'র ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন ফুঁসে ওঠার পর প্রাণহানির ঘটনাকে পুঁজি করে তেহরানকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে হোয়াইট হাউজ। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে বসে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও হুঁশিয়ার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর বলছে বিক্ষোভকারীদের হত্যার দায়ে ইরানে খুব কঠোরভাবে আঘাত হানার কথা ভাবছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্ক টাইমসের খবর বলছে, ইরানে কিভাবে হামলা করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প নিজেও বলেছেন বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি-না তা জানা না গেলও ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের শঙ্কা প্রকট হচ্ছে। জল্পনা চলছে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠারও। ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এ নিয়ে উদ্বেগের পাল্লা আরও ভারি হচ্ছে।

এই শঙ্কা আরও বেশি উস্কে দিয়েছে ইরান ইস্যুতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও'র গোপন ফোনালাপের ঘটনা। মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস। শুধু তাই নয় মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন টুপি হাতে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বারবার শেয়ার করা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন কমান্ডার-ইন-চিফ লিন্ডসে গ্রাহামের পোস্ট করা সেই ছবিটি শনিবার শেয়ার দিয়েছেন ট্রাম্পও। ইরানের বিক্ষোভকারীদেরও মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন স্লোগান দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরানে ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা পতনের এই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংশ্লিষ্টতার প্রকাশ্য নজির মিলছে। চলমান বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন দেশে চলমান বিক্ষোভে একই সঙ্গে বাধা রয়েছে ইসরাইল ও ইরানের পতাকা। তবে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লব আগে রাজতন্ত্রের সময়ের ইরানি পতাকা দেখা যাচ্ছে বিক্ষোভকারীদের হাতে। যেই পতাকায় রয়েছে সিংহ ও সূর্যের প্রতীক।

এমনকি শুক্রবার মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সেও ইরানের পতাকার ইমোজির পরিবর্তে বিপ্লব-পূর্ববর্তী পতাকাটি যুক্ত করা হয়। আন্দোলনকারীরা ছিঁড়ে ফেলছেন বর্তমান ইসলামিক শাসন ব্যবস্থার পতাকা।

ইএ