মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানি ব্যাহত, ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি

ফ্লাইট বাতিলে বিমানবন্দরে আটকে আছে রপ্তানি পণ্য
ফ্লাইট বাতিলে বিমানবন্দরে আটকে আছে রপ্তানি পণ্য | ছবি: এখন টিভি
0

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের বাণিজ্য খাতে। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে জমে আছে বিপুল পরিমাণ রপ্তানি পণ্য। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় বাড়ছে অর্ডার বাতিলের ঝুঁকি, আর ভাড়া বাড়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

মধ্যপ্রাচ্যে ন্যাটো বাহিনীর জন্য পোশাক রপ্তানির কাজ হাতে এসেছে কাস্টমসের এই সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের। কিন্তু, গত দুই সপ্তাহে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার ২০টি শিপমেন্টের মধ্যে মাত্র দুটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাঠাতে পেরেছেন তিনি।

এলসি করা বাকি সব শিপমেন্ট এখনও পড়ে আছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকারও বেশি। শুধু ঢাকাতেই নয়, রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে পাঠানো প্রায় ১০০ ট্রাক পণ্যও ফেরত  আনতে হয়েছে তাকে।

ব্যবসায়ী কাস্টম সি অ্যান্ড এস এজেন্ট মো. রবি উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ‘টি কে ফুটের একটা এক্সপোর্ট, বড় কোয়ান্টিটি ছিলো, গত এক সপ্তাহে আমি প্রায় ১০০ গাড়ি ব্যাক করে নিয়ে এসেছি। যেখানে এক সপ্তাহে একটা কনসাইনমেন্ট শিপমেন্ট করি সেখানে মাত্র দুইটা শিপমেন্ট দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:

তবে এই চিত্র শুধু একজন ব্যবসায়ীর নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতের অচলাবস্থা। নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় রপ্তানিকারকদের সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন দুশ্চিন্তা, বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের আশঙ্কা। পাশাপাশি গত দুই সপ্তাহে ভাড়া দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিরাট ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা।

অনেক কার্গো ফ্লাইটের ট্রানজিট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হওয়ায় এর প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের বাজারেই নয়, ইউরোপমুখী রপ্তানিতেও পড়েছে। বিশেষ করে পচনশীল কৃষিপণ্য ও কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে থেকে এলসি করা কিছু পণ্য সীমিতসংখ্যক চলমান ফ্লাইটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাঠানো হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে গার্মেন্টস পণ্য পৌঁছাতে না পারায় অনেক বিদেশি ক্রেতা ক্রয়াদেশ বাতিলের কথাও জানাচ্ছেন।

আমান উল্লাহ সবুজ কাস্টমস সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট বলেন, ‘গার্মেন্টসের মালগুলো আমরা রপ্তানি করতে পারছি না। যেখানে মালগুলো আমাদের রপ্তানি করার কথা অর্থাৎ যাদের কাছে আমরা বিক্রি করি, যারা আমাদের এলসি দেই, তারা মালটা নিচ্ছে না। পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে আমাদের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।এতে বাজার নষ্ট হচ্ছে।’

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, আমদানি–রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় গত দুই সপ্তাহেই প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি এবং প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের আমদানিতে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মো. খায়রুল আলম ভূঁইয়া  কাস্টমস বলেন, ‘গত সাতদিনে আমরা প্রায় ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন আমদানি পণ্য আনা থেকে ব্যাহত হয়েছি। যেগুলো মূলত দুবাই, মধ্যপ্রাচ্য, বাংলাদেশে আনা হয়। এছাড়া রপ্তানি ক্ষেত্রে আমরা প্রায় ৯০০ মিলিয়ন পণ্য রপ্তানি করতে ব্যাহত হয়েছি।’

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০টির কাছাকাছি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আকাশপথে পণ্য পরিবহন কার্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এএম