প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া এবং নিখুঁত পর্যালোচনার কারণে নতুন পে-স্কেল গেজেট (New Pay Scale Gazette) প্রকাশ হতে কিছুটা সময় লাগছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের (জুলাই ২০২৬) মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ এই বহুল প্রতীক্ষিত গেজেটটি প্রকাশ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
কত ধাপে ও কীভাবে বাড়বে বেতন? (Steps of Pay Scale Implementation)
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন পে-স্কেলের বেতন ও ভাতা একসাথে কার্যকর না করে কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বছর: নতুন বেতন কাঠামোর প্রথম দুই অর্থবছরে মূলত কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধি (Basic Salary Increment) করা হবে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।
তৃতীয় বছর: শেষ ধাপে গিয়ে মূল বেতনের সাথে আনুষঙ্গিক অন্যান্য সরকারি ভাতা (Government Allowances) কার্যকর করা হবে।
আরও পড়ুন:
অন্তর্বর্তী সরকারের পে কমিশন বনাম বর্তমান কমিটির খসড়া (Pay Commission Recommendation)
২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত 'জাতীয় বেতন কমিশন' সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। যেখানে বিদ্যমান সর্বনিম্ন স্কেল ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ১,৬০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া (Draft Salary Framework) তৈরি করেছে, যার ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে গেজেট চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
আরও পড়ুন:
বাজেট বরাদ্দ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা (Budget Allocation for Pay Scale)
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯,৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়ায় ১,৪১,৪৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৪,০০০ কোটি টাকা মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্যই রাখা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি (CPD)-এর সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, প্রায় ১১ বছর পর এই বেতন বৃদ্ধি (Salary Hike) সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করবে। তবে একই সাথে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ (Inflation Control) এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাজারের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়াও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক জটিলতায় গেজেট প্রকাশে সামান্য বিলম্ব হলেও, যখনই এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হোক না কেন, সরকারি চাকরিজীবীরা বকেয়াসহ বেতন (Salary with Arrears) পাওয়ার সুবিধাটি পাবেন।
আরও পড়ুন:
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল: একনজরে সর্বশেষ আপডেট ও রূপরেখা
New Pay Scale & Salary Update for Government Employees at a Glance
কার্যকর হওয়ার তারিখ
১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ এড়াতে কয়েকটি ধাপে (পর্যায়ক্রমে) বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রথম ধাপের পরিবর্তন
প্রথমেই কর্মচারীদের মূল বেতন (Basic Salary) বাড়ানো হবে; পরবর্তীতে ভাতা বৃদ্ধি পাবে।
আংশিক বাজেট বরাদ্দ
নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
বর্তমান অবস্থা ও গেজেট
উচ্চপর্যায়ের কমিটির তৈরি করা খসড়া রূপরেখা এবং গেজেট তৈরির কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষ তথ্য: গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও এটি যখনই পূর্ণাঙ্গ কার্যকর হোক না কেন, বকেয়াসহ (Arrears) তা পরিশোধ করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
(Effective Date)
(Implementation Method)
(First Phase Focus)
(Budget Allocation)
(Gazette Status)
আরও পড়ুন:


