বৈঠকে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রস্তাব এবং সশস্ত্র বাহিনীর নতুন বেতন কাঠামো (Armed forces salary structure) সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির লক্ষ্যে আগামী ২৪ জুন পরবর্তী ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
আরও পড়ুন:
১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও টাকা মিলবে অক্টোবরে (Effective from July, Disbursed in October)
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই নতুন পে স্কেল আগামী ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে। গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
তবে অর্থ বিভাগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি ও বিধি সংশোধনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে বর্ধিত বেতনের অর্থ (Increased salary and arrears money) সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে পেতে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে অক্টোবর মাসে টাকা দেওয়া হলেও তা জুলাই মাস থেকেই অ্যারিয়ার বা বকেয়া হিসাব করে একসাথে পরিশোধ করা হবে।
বিশেষ ইনসেনটিভ বাতিল: প্রকৃত বেতন বাড়বে কত শতাংশ? (Special Incentives Merged with Basic Salary)
নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে বর্তমানে চলমান ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা বা ইনসেনটিভ (Special incentive or inflation allowance) পৃথকভাবে আর বহাল থাকবে না। এটি নতুন মূল বেতনের সঙ্গে সমন্বয় বা মার্জ করা হবে।
বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মূল বেতনের ১৫% এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০% হারে বিশেষ ইনসেনটিভ পাচ্ছেন। নতুন ব্যবস্থায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত বাড়লেও অন্তর্বর্তীকালীন এই বিশেষ সুবিধা বাদ যাওয়ার ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হবে তুলনামূলক কিছুটা কম:
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (Grade 10 to 20): কর্মচারীদের কার্যকর বেতন বৃদ্ধি বা নেট ইনক্রিমেন্ট হবে প্রায় ৩৫ শতাংশ (Effective salary increment 35%)।
১ম থেকে ৯ম গ্রেড (Grade 1 to 9): কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি হবে প্রায় ৪০ শতাংশ (Effective salary increment 40%)।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অস্থায়ী ভাতার পরিবর্তে মূল বেতন বা বেসিক বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে চাকরিজীবীদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর-পরবর্তী সুবিধা (Pension and gratuity benefits) অনেক গুণ বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
বাজেটে রেকর্ড বরাদ্দ ও আওতাভুক্ত খাতসমূহ (Budget Allocation for New Salary Scale)
প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯,৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশনসহ এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য থোক বরাদ্দ থেকে প্রায় ৪৪,০০০ কোটি টাকা (44 thousand crore taka block allocation) ব্যয় করা হবে।
নতুন এই পে স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডারের পাশাপাশি শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং সকল স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও (Autonomous and semi-autonomous body employees) অন্তর্ভুক্ত হবেন।
আরও পড়ুন:
একনজরে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের সর্বশেষ আপডেট ও সমীকরণ (9th Pay Scale Implementation Status at a Glance)
গুরুত্বপূর্ণ নোট: মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় চলমান সাময়িক ইনসেনটিভ বাতিল করে স্থায়ী মূল বেতন (Basic Salary) বৃদ্ধির ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন পেনশন ও গ্র্যাচুইটি সুবিধার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মূল বিষয়সূচি
(Key Agenda)বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও সর্বশেষ আপডেট
(Meeting Decisions & Latest Updates)কার্যকর ও অর্থ প্রাপ্তি
(Effective & Disbursement)
সচিব কমিটির বৈঠক
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো পর্যালোচনা সম্পন্ন। পরবর্তী বৈঠক ২৪ জুন।
১৮ জুন (সম্পন্ন)
বাস্তবায়ন সময়সীমা
প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের কারণে বর্ধিত বেতনের অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হতে অক্টোবর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
১ জুলাই, ২০২৬ থেকে কার্যকর
প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি
(ইনসেনটিভ বাদে)চলমান ১০-১৫% অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ সুবিধা মূল বেতনে সমন্বয় হবে। মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০% বাড়লেও প্রকৃত নেট বৃদ্ধি হবে ৩৫% থেকে ৪০%।
১০ম-২০তম গ্রেড: ~৩৫%
১ম-৯ম গ্রেড: ~৪০%
বাজেট বরাদ্দ ২০২৬-২৭
জনপ্রশাসন খাতে মোট ১,৪১,৪৩৪ কোটি টাকা। নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে থোক বরাদ্দ থেকে ৪৪,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
৪৪,০০০ কোটি টাকা
(থোক বরাদ্দ)
আওতাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী
প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সকল স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
আরও পড়ুন:



