Recent event

রোজা শেষে স্বস্তি পেতে ইফতারে রাখুন ৫ মৌসুমি ফল

শিমুল রহমান
ইফতারে মৌসুমি ফলের উপকারিতা
ইফতারে মৌসুমি ফলের উপকারিতা | ছবি: এখন টিভি
0

রমজানের দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতারে সঠিক খাদ্য নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পুষ্টিবিদরা (Nutritionists) ইফতারের তালিকায় প্রথম সারিতে মৌসুমি ফল (Seasonal Fruits) রাখার পরামর্শ দেন। মৌসুমি ফল কেবল সহজপাচ্যই নয়, বরং এগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে।

ইফতারের টেবিলে এক বাটি মৌসুমি ফল রাখতে পারলে একই সঙ্গে স্বস্তি, পুষ্টি ও সতেজতা নিশ্চিত হয়। বর্তমান সময়ে বাজারের সহজলভ্য ৫টি ফলের উপকারিতা নিয়ে আজকের এই প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন:

ফলের নাম (Fruit Name) প্রধান উপাদান (Main Elements) বিশেষ উপকারিতা (Special Benefits)
তরমুজ (Watermelon) ৯০% পানি, লাইকোপিন পানিশূন্যতা দূর করে ও শরীর ঠান্ডা রাখে।
কলা (Banana) পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায় ও ক্লান্তি দূর করে।
পেঁপে (Papaya) প্যাপাইন এনজাইম, ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে ও পেট পরিষ্কার রাখে।
আনারস (Pineapple) ব্রোমেলিন, ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও হজম শক্তি বাড়ায়।
ডাবের পানি (Coconut Water) প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট পানির ঘাটতি পূরণ ও খনিজ সরবরাহ করে।

আরও পড়ুন:

১. তরমুজ: পানিশূন্যতা রোধে সেরা (Watermelon for Dehydration)

গ্রীষ্মের আগাম ফল তরমুজের প্রায় ৯০ শতাংশই পানি। এটি সারাদিনের পানিশূন্যতা (Dehydration) কাটাতে জাদুর মতো কাজ করে। এতে থাকা লাইকোপিন ও ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) হিসেবে কাজ করে। ইফতারে কয়েক টুকরো তরমুজ খেলে শরীর দ্রুত রিহাইড্রেট হয় এবং সতেজতা ফিরে আসে।

২. কলা: তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস (Banana for Instant Energy)

সহজলভ্য ও অত্যন্ত শক্তিদায়ক ফল হলো কলা। এতে থাকা উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম (Potassium) শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পেশির দুর্বলতা (Muscle Weakness) কমায়। একটি মাঝারি আকারের কলা ইফতারে খাওয়ার সাথে সাথে শরীরের ক্লান্তি দূর করে তাৎক্ষণিক শক্তি (Instant Energy) জোগায়।

৩. পেঁপে: হজমে আরামদায়ক (Papaya for Digestion)

পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে হজমে সহায়ক এনজাইম। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর পাকস্থলীকে শান্ত রাখতে পেঁপে অত্যন্ত কার্যকর। এটি হালকা ও সহজপাচ্য হওয়ায় পেটের কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না এবং কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন:

৪. আনারস ও মাল্টা: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় (Pineapple and Malta)

ভিটামিন সি (Vitamin C) ও ব্রোমেলিন এনজাইম সমৃদ্ধ আনারস হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। তবে যাদের অ্যাসিডিটির (Acidity) সমস্যা আছে, তারা আনারস পরিমিত পরিমাণে খাবেন। অন্যদিকে, মাল্টা বা কমলালেবু শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) বাড়াতে সাহায্য করে।

৫. ডাবের পানি: প্রাকৃতিক স্যালাইন (Coconut Water)

ফলের পাশাপাশি ডাবের পানি ইফতারের একটি অন্যতম সেরা পানীয়। এটি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের (Natural Electrolytes) উৎস, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে ওষুধের মতো কাজ করে। এটি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে এই প্রাকৃতিক ফলগুলো ইফতারে রাখলে লিভার ও কিডনি সুরক্ষিত থাকে। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের ইফতারে অন্তত একটি বা দুটি মৌসুমি ফল যোগ করুন।

আরও পড়ুন:

রমজানের স্বাস্থ্যকর ইফতার ডায়েট প্ল্যান (Healthy Iftar Diet Plan)

সময় (Timing) খাবার মেনু (Food Items) কেন খাবেন? (Reason)
ইফতারের শুরুতে ২টি খেজুর ও ১ গ্লাস ডাবের পানি অথবা লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) প্রাকৃতিক সুগার ও ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে।
প্রধান ইফতার এক বাটি মিক্সড ফ্রুট সালাদ (তরমুজ, কলা, পেঁপে ও আপেল) দ্রুত পানি ও গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণে।
প্রোটিন সোর্স সেদ্ধ ছোলা সালাদ (আদা, পুদিনা পাতা ও শসা সহ) অথবা ২-৩টি সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে এবং পেশির শক্তি জোগাতে।
নামাজের পর (হালকা খাবার) এক বাটি টক দই অথবা চিড়া-কলা-দইয়ের মিশ্রণ হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে এবং প্রোবায়োটিক সরবরাহে।
ডিনারের আগে পর্যাপ্ত পানি পান (অল্প অল্প করে বিরতি দিয়ে) পরবর্তী দিনের রোজার জন্য শরীরকে হাইড্রেট রাখতে।


এসআর