Recent event

ইফতারে মুড়ি কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? জানুন পুষ্টিগুণ এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সতর্কতা

ইফতারে মুড়ি খাওয়ার উপকারিতা
ইফতারে মুড়ি খাওয়ার উপকারিতা | ছবি: এখন টিভি
0

রমজানে ইফতারের (Iftar) সময় মুড়ি বেশ জনপ্রিয়। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি বা জিলাপির সঙ্গে মুড়ির সম্পর্ক যেন অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু সারাদিন রোজা রাখার পর খালি পেটে মুড়ি খাওয়া কি সত্যিই শরীরের জন্য ভালো? পুষ্টিবিদদের মতে, মুড়ি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।

মুড়ির পুষ্টিগুণ (Nutritional Value of Puffed Rice)

এক কাপ (প্রায় ১৪ গ্রাম) মুড়িতে থাকা পুষ্টি উপাদানগুলো হলো:

  • ক্যালরি (Calories): ৫৬ কিলোক্যালরি
  • শর্করা (Carbohydrates): ১২.৬ গ্রাম
  • প্রোটিন (Protein): ০.৯ গ্রাম
  • ফাইবার (Fiber): ০.২ গ্রাম
  • ফ্যাট (Fat): ০.১ গ্রাম
  • এছাড়া এতে সামান্য পরিমাণে আয়রন (Iron) ও বি-ভিটামিন (B-Vitamins) থাকে।

তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি যে, মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index - GI) বেশ উচ্চ (প্রায় ১০৫)। যার অর্থ হলো, এটি খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar Level) খুব দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন:

ইফতারে মুড়ি খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা

বিষয় (Topic) পরামর্শ (Recommendation) কেন খাবেন? (Reason)
পরিমাণ (Quantity) ১ থেকে ২ কাপ মুড়ি পর্যাপ্ত। অতিরিক্ত খেলে পেট ফাঁপা হতে পারে।
ডায়াবেটিস (Diabetes) সর্বোচ্চ আধা কাপ মুড়ি। ব্লাড সুগার দ্রুত বেড়ে যাওয়া রোধ করতে।
সেরা কম্বিনেশন (Combination) ছোলা, বাদাম, দই বা শসা-টমেটো। প্রোটিন ও ফাইবারের ভারসাম্য বজায় রাখতে।

পুষ্টিবিদদের বিশেষ সতর্কতা (Expert Precautions)

সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীর দ্রুত শক্তি (Energy) চায়। মুড়ি তাৎক্ষণিক এনার্জি দিলেও এতে ফাইবার ও প্রোটিন কম থাকায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে না। ফলে দ্রুত ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে। তাই মুড়ির সঙ্গে অবশ্যই প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (Healthy Fats) যেমন—ছোলা, চিনা বাদাম বা কাজু বাদাম যুক্ত করা উচিত। এছাড়া শসা, টমেটো বা ধনেপাতা যোগ করলে ভিটামিনের চাহিদাও পূরণ হবে।

আরও পড়ুন:

ইফতারে মুড়ি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর-FAQ

ক্র. নং প্রশ্ন (Search Query) উত্তর (Answer)
০১ মুড়ির পুষ্টিগুণ কী? (Nutritional Value) মুড়িতে প্রচুর শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট থাকে। এটি তাৎক্ষণিক শক্তি (Instant Energy) জোগাতে সাহায্য করে।
০২ ইফতারে মুড়ি খেলে কি গ্যাস হয়? (Gastric Issues) মুড়ি নিজে হালকা খাবার, তবে এতে অতিরিক্ত তেল, মশলা বা চানাচুর মিশিয়ে খেলে গ্যাস হতে পারে।
০৩ ডায়াবেটিস রোগীরা কি মুড়ি খেতে পারেন? (Diabetes) হ্যাঁ, তবে সামান্য পরিমাণে (আধা কাপ)। মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশি হওয়ায় এটি রক্তে সুগার দ্রুত বাড়ায়।
০৪ মুড়ি খেলে কি ওজন কমে? (Weight Loss) মুড়ি ক্যালরি কম ও ফ্যাট ফ্রি। ভাজাপোড়ার বদলে মুড়ি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
০৫ ইউরিয়া মুক্ত মুড়ি চিনব কীভাবে? (Urea Free) ইউরিয়া মেশানো মুড়ি খুব ধবধবে সাদা ও আকারে অস্বাভাবিক বড় হয়। প্রাকৃতিক মুড়ি কিছুটা লালচে বা কালচে হয়।
০৬ খালি পেটে মুড়ি খাওয়া কি ভালো? (Empty Stomach) ইফতারে প্রথমে পানি বা খেজুর খেয়ে মুড়ি খাওয়া ভালো। সরাসরি মুড়ি রক্তে শর্করার তারতম্য ঘটাতে পারে।
০৭ মুড়ির সাথে কী মেশালে পুষ্টি বাড়ে? (Healthy Toppings) ছোলা, শসা, টমেটো, ধনেপাতা ও আদা কুচি মেশালে এটি ফাইবার ও প্রোটিন সমৃদ্ধ হয়।
০৮ ইফতারে মুড়ি কেন জনপ্রিয়? (Iftar Culture) এটি সস্তা, সহজলভ্য এবং খুব সহজে হজম হয় বলে বাঙালির ইফতারে এটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
০৯ মুড়ি খেলে কি কিডনির ক্ষতি হয়? (Kidney Health) স্বাভাবিক মুড়িতে সমস্যা নেই, তবে লবণের পরিমাণ বেশি থাকলে তা কিডনি রোগীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
১০ বাচ্চাদের কি ইফতারে মুড়ি দেওয়া যাবে? (Child Nutrition) হ্যাঁ, শিশুদের জন্য মুড়ি একটি নিরাপদ স্ন্যাকস। তবে অতিরিক্ত শুকনো মুড়ি খেলে গলায় আটকানোর ভয় থাকে।
১১ মুড়ি কি রক্তচাপ বাড়ায়? (Blood Pressure) মুড়িতে সোডিয়াম (Sodium) কম থাকে, তাই এটি উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে যদি লবণ ছাড়া খাওয়া হয়।
১২ এক ভরি মুড়িতে কত ক্যালরি? (Calories) ১ কাপ (প্রায় ১৪-১৫ গ্রাম) মুড়িতে প্রায় ৫০-৬০ কিলোক্যালরি শক্তি থাকে।
১৩ মুড়ি মাখানো কি অস্বাস্থ্যকর? (Muri Makha) অতিরিক্ত ঝাল, পোড়া তেল এবং অস্বাস্থ্যকর পেয়াজু মেশালে মুড়ি মাখানো ক্ষতিকর হতে পারে।
১৪ গর্ভাবস্থায় কি মুড়ি খাওয়া যায়? (Pregnancy) হ্যাঁ, এটি বমি বমি ভাব কাটাতে সাহায্য করে। তবে পুষ্টির জন্য মুড়ির ওপর নির্ভর করা যাবে না।
১৫ দই-মুড়ি না কি ছোলা-মুড়ি? (Best Combination) শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে ও হজমের জন্য ইফতারে দই-মুড়ি সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অপশন।

আরও পড়ুন:


এসআর