ইতিকাফ: ফজিলত, বিধান ও শবে কদর প্রাপ্তির সহজ উপায়

ইতিকাফের নিয়ম ও ফজিলত
ইতিকাফের নিয়ম ও ফজিলত | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র মাহে রমজানের বিদায়ী ঘণ্টা বাজছে। সামনেই মুমিনদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত শেষ দশক। এই দশকের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো ইতিকাফ (Itikaf)। ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুমিন নিজেকে দুনিয়ার সব ব্যস্ততা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর সান্নিধ্যে সঁপে দেন। ইতিকাফের মূল লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর (Laylat al-Qadr) প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

ইতিকাফের বিধান ও সময়সূচি (Rules and Timing of Itikaf)

রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ হলো সুন্নতে মুআক্কাদাহ কিফায়াহ (Sunnah al-Muakkadah al-Kifayah)। অর্থাৎ মহল্লার কোনো একজন ব্যক্তি ইতিকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসী দায়মুক্ত হবে, নতুবা সবাই গুনাহগার হবে। ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগে থেকে ইতিকাফ শুরু করতে হয় এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ (Shawwal Moon) দেখা যাওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। কেউ যদি পুরো ১০ দিন না পারেন, তবে তিনি নফল ইতিকাফ (Nafl Itikaf) হিসেবে যেকোনো সময় অবস্থান করতে পারেন।

আরও পড়ুন:

নারীদের ইতিকাফের নিয়ম (Rules for Women's Itikaf)

পুরুষদের জন্য মসজিদে ইতিকাফ করা আবশ্যক হলেও নারীরা নিজের ঘরে নির্ধারিত কক্ষে ইতিকাফ (Women's Itikaf at Home) করতে পারেন। ইতিকাফ অবস্থায় প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। তবে ইতিকাফ কক্ষে অন্য সদস্যরা থাকতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় সাংসারিক কথাবার্তা বলা বৈধ। উল্লেখ্য যে, ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণ (Marital Relations) কোরআনের বিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ইতিকাফ অবস্থায় যা করা যাবে (Permissible Acts During Itikaf)

ইতিকাফকারী বা মুতাকিফ (Mutakif) মসজিদের ভেতরে বা নির্ধারিত কক্ষে অবস্থানকালে সুগন্ধি ব্যবহার, তেল লাগানো এবং চুল-দাড়ি আঁচড়াতে পারবেন। এছাড়া যারা শিক্ষকতা পেশায় জড়িত, তারা ইতিকাফ অবস্থায় দ্বীনি তালিম বা শিক্ষা প্রদান করতে পারবেন। তবে অহেতুক বা অনর্থক কথাবার্তা বলে ইবাদতের পরিবেশ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

ইতিকাফের ধর্মীয় গুরুত্ব (Religious Significance of Itikaf)

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-কে তাঁর গৃহ পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইতিকাফকারীদের জন্য (সূরা বাকারা: ১২৫)। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। মূলত লাইলাতুল কদর (Laylat al-Qadr) বা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাতটি নিশ্চিতভাবে পাওয়ার জন্যই এই বিশেষ ইবাদত পালন করা হয়।

ইতিকাফের তিন প্রকার (Three Types of Itikaf)

ইসলামি বিধান অনুযায়ী ইতিকাফ প্রধানত তিন প্রকার:

১. সুন্নত ইতিকাফ (Sunnah Itikaf): রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া (Sunnah al-Muakkadah al-Kifayah)। মহল্লার একজন আদায় করলে সবাই দায়মুক্ত হবে, নতুবা সবাই গুনাহগার হবে।

২. ওয়াজিব ইতিকাফ (Wajib Itikaf): কোনো মানত (Vow) করলে তা আদায় করা ওয়াজিব। এছাড়া সুন্নত ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে গেলে তার কাজা করাও ওয়াজিব।

৩. নফল ইতিকাফ (Nafl Itikaf): যেকোনো সময় অল্প সময়ের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা। এর জন্য রোজা রাখা শর্ত নয়।

একনজরে ইতিকাফের প্রকারভেদ (Types of Itikaf at a Glance)

ইতিকাফের ধরন (Type) সময়কাল (Duration) শর্ত (Condition)
সুন্নত ইতিকাফ রমজানের শেষ ১০ দিন রোজা রাখা আবশ্যক
ওয়াজিব ইতিকাফ মানত করা সময় (ন্যূনতম ২৪ ঘণ্টা) রোজা রাখা শর্ত
নফল ইতিকাফ যেকোনো পরিমাণ সময় রোজার প্রয়োজন নেই

আরও পড়ুন:

এসআর