Recent event

নিয়ত না করলে কি তারাবি নামাজ হবে? জানুন সঠিক নিয়ম, দোয়া ও ফজিলত

তারাবির নামাজের নিয়ত
তারাবির নামাজের নিয়ত | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র রমজান মাসে এশার নামাজের পর এবং বিতরের আগে যে সুন্নত নামাজ আদায় করা হয়, তাকেই আমরা তারাবি নামাজ (Taraweeh Prayer) বলি। এই নামাজ অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তবে অনেক মুসল্লির মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে— মুখে নিয়ত না করলে কি তারাবি নামাজ (Taraweeh Namaz Niyat and Rules) হবে? বা নিয়ত করার সঠিক নিয়ম কী?

নিয়ত নিয়ে শরয়ি বিধান (Islamic Rules on Niyat)

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, নিয়ত বা অন্তরের সংকল্প ছাড়া কোনো ইবাদত কবুল হয় না। তবে নিয়ত মানেই মুখে আরবি বা বাংলায় উচ্চারণ করে বলা নয়। আপনি যখন তারাবির নামাজের জন্য জায়নামাজে দাঁড়ালেন, আপনার মনে এই ইচ্ছাই যথেষ্ট যে, আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবি নামাজ পড়ছেন। অর্থাৎ, মুখে ‘নাওয়াইতু আন...’ বলা বাধ্যতামূলক নয়, অন্তরের ইচ্ছাই (Intention of Heart) যথেষ্ট।

আরও পড়ুন:

তারাবির নামাজের নিয়ত (Niyat for Taraweeh Namaz)

মনে রাখবেন, নিয়ত মূলত মনের সংকল্প। তবে কেউ যদি মুখে উচ্চারণ করতে চান, তবে এভাবে বলতে পারেন:

আরবি নিয়ত: نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالَى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া ল্লিাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

বাংলা অর্থ: আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবি সুন্নতে রাসুল নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।

তারাবির নামাজের তাসবিহ (৪ রাকাত পর পর)

তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত শেষ করে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নেওয়া এবং এই তাসবিহটি পাঠ করা উত্তম:

আরবি তাসবিহ: سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوتِ سُبْحانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِي لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوتُ سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّنَا وَرَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

উচ্চারণ: সুবহানা যিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা যিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাযী লা-ইানামু ওয়ালা ইয়ামুতু সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ।

বাংলা অর্থ: মহাপবিত্র রাজত্ব ও মালকুয়াতের অধিকারী আল্লাহ। মহিমান্বিত, মহান, ভয় ও ক্ষমতার অধিকারী, অহঙ্কার ও প্রতাপশালী আল্লাহ মহিমান্বিত। সেই চিরঞ্জীব রাজাধিরাজ আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি যিনি ঘুমান না এবং যার মৃত্যু নেই। তিনি অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত, আমাদের প্রতিপালক এবং ফেরেশতা ও জিবরাঈল (আ.)-এর প্রতিপালক।

আরও পড়ুন:

তারাবির নামাজের দোয়া (Munajat)

তারাবির নামাজ শেষে এই দোয়াটি পাঠ করা অনেক সওয়াবের এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম:

আরবি দোয়া: اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْئَلُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ، يَا خَالِقَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ، بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ، يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ، يَا رَحِيْمُ يَا جَبَّارُ، يَا خَالِقُ يَا بَارُّ، اَللّٰهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ، يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ، بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনান নার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাচ্ছি। হে জান্নাত ও জাহান্নামের স্রষ্টা! আপনার রহমতের উসিলায় হে পরাক্রমশালী, হে ক্ষমাশীল, হে দয়াবান, হে দোষ গোপনকারী, হে দয়ালু, হে জবরদস্ত, হে স্রষ্টা, হে দাতা। হে আল্লাহ! আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। হে উদ্ধারকর্তা, হে উদ্ধারকর্তা, হে উদ্ধারকর্তা। আপনার রহমতের উসিলায় হে দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

তারাবির নামাজের ফজিলত (Virtues of Taraweeh)

হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে এবং রাতে তারাবির নামাজ পড়বে, সে তার জন্মদিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে। (নাসাঈ, হাদিস: ২২১২)।

আরও পড়ুন:

তারাবি নামাজের নিয়ম (How to Pray Taraweeh)

সময়: এশার ফরজের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত।

পদ্ধতি: তারাবি নামাজ মূলত দুই রাকাত করে আদায় করা হয়। প্রতি দুই রাকাত পর পর সালাম ফেরাতে হয়।

বিশ্রাম: প্রতি চার রাকাত আদায়ের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়। একে ‘তারাবি’ বলার কারণই হলো বিশ্রাম নেওয়া। এই সময়ে তাসবিহ-তাহলিল পাঠ করা উত্তম।

বিষয় করণীয়
নিয়ত (Intention) অন্তরের সংকল্পই আসল। মুখে বলা ঐচ্ছিক।
নামাজের পদ্ধতি ২ রাকাত করে মোট ২০ বা ৮ রাকাত।
চার রাকাত পর পর বিশ্রাম নেওয়া এবং তাসবিহ পাঠ করা সুন্নত।
মোনাজাত জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া।

আরও পড়ুন:

এসআর