‘গাছ লাগাই, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশবিষয়ক তরুণ নেতৃত্বাধীন সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নেতৃত্বে আজ (শুক্রবার, ৫ জুন) দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। এ আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক, স্বপ্নপূরী কল্যাণ সংস্থা ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই)।
কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ সহযোগী হিসেবে ছিল সাসটেইনএবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল) এবং স্থানীয় শতাধিক পরিবেশবান্ধব সংগঠন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার সুযোগ রয়েছে—এমন স্থানে স্থায়ীভাবে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশবান্ধব উপহার হিসেবে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে অন্তত দুটি করে ফলজ ও বনজ গাছ দেয়া হয়।
এ দিন সারা দেশের জেলা শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় অতিথি ও পরিবেশকর্মীরা পরিবেশ সংরক্ষণের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন। এছাড়া হাটবাজার ও জনসমাগমস্থলে সাধারণ মানুষের মাঝে গাছ লাগানোর উপকারিতা, বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।
ঢাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, ‘বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তনের হাত থেকে বাঁচাতে হলে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তবে আমরা একদিকে বৃক্ষরোপণ করলাম আরেকদিকে অবাধে কাটলাম, এমন হলে পরিবেশ বাঁচবে না। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বড় গাছ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরিতেও আমাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআরের উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বৈশ্বিক মঞ্চে পরিচিত। এই বাস্তবতায় কেবল প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ৬৪ জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির এই উদ্যোগ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।’
ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সারা দেশে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। ৬৪ জেলায় একযোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
বেলার পলিসি ও ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর বারীশ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। এই কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন করে তুলবে।’
মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, ‘এই কর্মসূচি কেবল গাছ লাগানোর উদ্যোগ নয়, বরং একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন। ৬৪ জেলার এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা দেশের প্রতিটি মানুষের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ ছড়িয়ে দিতে চাই।’
আয়োজকেরা জানান, এটি কেবল একটি দিবসকেন্দ্রিক আয়োজন নয়। সারা বছর ধরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলবে এবং রোপণ করা গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যায় দেশের সব সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিয়ে একযোগে কাজ করা হবে।





