সওয়াবের ধরণ (Types of Reward) ফজিলত ও বর্ণনা (Virtues) পূর্ণ রোজার নেকি রোজাদার যা সওয়াব পাবেন, ইফতার করালেও সমপরিমাণ সওয়াব মিলবে। গোনাহ মাফ আন্তরিকভাবে আহার করালে আল্লাহ বান্দার আগের গোনাহ ক্ষমা করে দেন। ফেরেশতাদের দোয়া ইফতার করানোর সময় ফেরেশতারা দাতার জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকেন। জান্নাতের সুসংবাদ অন্যকে আহার করানো জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম একটি সহজ পথ। দোয়া কবুলের নিশ্চয়তা রোজাদার যখন ইফতার করে তৃপ্ত হন, তখন দাতার জন্য করা দোয়া কবুল হয়।
আরও পড়ুন:
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইফতারের গুরুত্ব (Importance of Iftar in Quran & Sunnah)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সৎকর্ম ও পারস্পরিক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন। এর অন্যতম উদাহরণ হলো রোজাদারকে ইফতার করানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ আমলের বিশেষ ফজিলত (Virtues of feeding fasting people) বর্ণনা করে বলেছেন:
"যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না।" (তিরমিজি, হাদিস: ৮০৭)
এই হাদিসটি মুমিনদের জন্য একটি বড় সুসংবাদ। অর্থাৎ, সামর্থ্য কম হলেও স্রেফ একটি খেজুর বা সামান্য পানীয় দিয়েও একজন রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি অর্জন করা সম্ভব।
ইফতার করানোর সামাজিক ও আধ্যাত্মিক দিক (Social & Spiritual Aspects)
রোজাদারকে আহার করানো কেবল একটি দান নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি ইবাদত (Special Worship)। এর মাধ্যমে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও উদারতার চর্চা হয়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নেককারদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে বলেছেন:
"তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আহার করায়।" (সুরা আল-ইনসান, আয়াত: ৮)
রমজানে দরিদ্র ও অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানোর মাধ্যমে এই আয়াতের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। এটি সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের (Brotherhood and Unity) পরিবেশ সৃষ্টি করে। মসজিদে বা মহল্লায় ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে একসঙ্গে ইফতার করা ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে।
আরও পড়ুন:
ইফতার আয়োজনে বর্জনীয় বিষয় (Things to Avoid in Iftar Party)
সওয়াব অর্জনের এই আমলটি যেন কোনোভাবেই প্রদর্শনী বা লৌকিকতায় (Show-off) পরিণত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ইফতার আয়োজন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে অপচয়ে (Wastage) রূপ নেয়। এ বিষয়ে আল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, "নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।" (সুরা ইসরা, আয়াত: ২৭)। তাই আড়ম্বর নয়, বরং আন্তরিকতা ও ইখলাসই (Sincerity) হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
পরিশেষে, রমজান আমাদের ত্যাগের পাশাপাশি অন্যের প্রতি সহমর্মিতা শেখায়। সামান্য খাবার বা পানীয় দিয়ে হলেও আসুন আমরা রোজাদারদের ইফতার করানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অফুরন্ত সওয়াবের অধিকারী হই।
ইফতার করানোর ফজিলত ও মাসয়ালা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর-FAQ
ক্রমিক সাধারণ মানুষের প্রশ্ন (Common Queries) সঠিক উত্তর (Answers) ১ ইফতার করালে কি সত্যিই পূর্ণ রোজার সওয়াব পাওয়া যায়? হ্যাঁ, হাদিস অনুযায়ী রোজাদার যা সওয়াব পাবেন, ইফতার করালে সমপরিমাণ সওয়াব মিলবে। ২ শুধু পানি বা খেজুর খাওয়ালে কি সওয়াব হবে? হ্যাঁ, স্রেফ এক ঢোক পানি বা একটি খেজুর দিয়ে ইফতার করালেও পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায়। ৩ ইফতার করালে কি রোজাদারের সওয়াব কমে যায়? না, রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হয় না। এটি আল্লাহর বিশেষ রহমত। ৪ নিজের পরিবারের সদস্যদের ইফতার করালে কি এই সওয়াব হবে? হ্যাঁ, নিয়ত সঠিক থাকলে পরিবারের সদস্যদের ইফতার করালেও একই সওয়াব পাওয়া যায়। ৫ অমুসলিমদের কি ইফতার করানো যাবে? মানবিক দিক থেকে অন্য ধর্মের মানুষদের খাবার খাওয়ানো প্রশংসনীয় কাজ, তবে রোজাদারের সওয়াব পেতে হলে মুসলিম রোজাদারকে ইফতার করাতে হবে। ৬ কাকে ইফতার করানো সবচেয়ে বেশি উত্তম? দরিদ্র, এতিম, মুসাফির এবং দ্বীনদার রোজাদারদের ইফতার করানো সবচেয়ে বেশি উত্তম। ৭ ইফতারের দাওয়াত পেলে কি যেতেই হবে? সাধ্য থাকলে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত, কারণ এতে মুমিনের হৃদয়ে আনন্দ সৃষ্টি হয় এবং ভ্রাতৃত্ব বাড়ে। ৮ ইফতার করানোর দোয়া কোনটি? অন্যের ঘরে ইফতার করলে রাসূল (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন— 'আফত্বারা ইনদাকুমুস সায়িমুনা...' (অর্থাৎ: রোজাদাররা তোমাদের কাছে ইফতার করুক)। ৯ রাস্তায় মানুষকে ইফতারি বিতরণের সওয়াব কেমন? এটি অত্যন্ত চমৎকার আমল। মুসাফির ও পথচারীদের ইফতারের কষ্ট লাঘব করলে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তৃষ্ণা মেটাবেন। ১০ ঋণ করে কি ইফতার পার্টি করা যাবে? না, ইসলাম অপচয় ও লোকদেখানো আড়ম্বর পছন্দ করে না। সাধ্যের বাইরে গিয়ে ঋণ করা অনুচিত। ১১ জাকাতের টাকা দিয়ে কি ইফতারি কেনা যায়? জাকাতের টাকা কেবল দরিদ্র ও অসহায়দের মালিকানায় দেওয়া যায়। তাই অভাবী রোজাদারদের ইফতারির সামগ্রী দেওয়া বৈধ। ১২ ইফতারের সময় কি দোয়া কবুল হয়? হ্যাঁ, ইফতারের আগমুহূর্তে দোয়া কবুল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। দাতা ও রোজাদার উভয়ের দোয়া কবুল হয়। ১৩ হারাম টাকায় ইফতার করালে কি সওয়াব হবে? না, ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল উপার্জন। হারাম টাকায় ইফতার করালে সওয়াব হবে না। ১৪ ইফতার করানোর সেরা সময় কোনটি? সূর্যাস্তের ঠিক আগে খাবার গুছিয়ে দেওয়া বা পরিবেশন করা। যাতে রোজাদার সময়মতো ইফতার করতে পারেন। ১৫ ইফতার করানোর ফলে সামাজিক লাভ কী? এটি মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা বাড়ায়, ধনী-গরিবের ব্যবধান কমায় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন মজবুত করে।
আরও পড়ুন:





