প্রচলিত ভুল (Common Mistakes) সঠিক সমাধান ও নির্দেশনা (Correct Guidance) চাঁদ দেখায় অবহেলা চাঁদ দেখা ইবাদত; যাচাই না করে খবরের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত খাবার মজুদ খাবারের চেয়ে ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির প্রস্তুতি বেশি জরুরি। বাচ্চাদের রোজা রাখতে না দেওয়া সুন্নত অনুযায়ী শিশুদের ধীরে ধীরে রোজায় অভ্যস্ত করা উচিত। মুখে নিয়ত করা বাধ্যতামূলক ভাবা নিয়ত অন্তরের সংকল্প; মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। রোজা রেখে গুনাহ করা মিথ্যা ও গিবত করলে রোজার পূর্ণ সওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। মেসওয়াক করলে রোজা ভাঙে ভাবা রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করা জায়েজ ও সুন্নত। সাহরির সময়ে ভুল করা সাহরি দেরিতে খাওয়া সুন্নত, কিন্তু ফজরের ওয়াক্ত হলে আর খাওয়া যাবে না। সাহরি না খেলে রোজা হয় না সাহরি খাওয়া সুন্নত; না খেলেও রোজা সহিহ হবে। থুতু গিললে রোজা ভাঙে ভাবা স্বাভাবিক থুতু গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হয় না। তারাবিতে তাড়াহুড়ো করা খুশু-খুজুর সাথে ধীরস্থিরভাবে তারাবি পড়া রমজানের হক। কেনাকাটায় সময় নষ্ট শেষ দশক কেনাকাটায় নয় বরং ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়। ফিতরা দিতে দেরি করা ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।
চাঁদ দেখা ও প্রস্তুতির ভুলসমূহ
১. রমজানের চাঁদ না দেখা।
অনেকে চাঁদ দেখাকে গুরুত্ব দেন না বা যাচাই ছাড়াই খবরের ওপর নির্ভর করেন। অথচ চাঁদ দেখা শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
২. রোজার জন্য খাবার মজুদ করা।
রমজান আসলে আমরা খাবারের দিকে বেশি মনোযোগ দিই! অথচ উচিত ছিল আমল, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির প্রস্তুতিকে প্রাধান্য দেওয়া।
৩. বাচ্চাদের রোজা রাখতে না দেওয়া।
অথচ রোজা ফরজ না হলেও শিশুদের ধীরে ধীরে রোজায় অভ্যস্ত করা সুন্নতসুলভ প্রশিক্ষণ।
আরও পড়ুন:
নিয়াত ও রোজা পালনের নিয়ম
৪. মুখে নিয়ত করা জরুরি মনে করা।
নিয়ত মূলত অন্তরের কাজ। মুখে উচ্চারণ না করলেও অন্তরে রোজার ইচ্ছা থাকলেই নিয়ত সহিহ হয়।
৫. রোজা রেখেও পাপ কাজে লিপ্ত হওয়া।
মিথ্যা, গিবত, চোখ ও কানের গুনাহ রোজার সওয়াব নষ্ট করে দেয়।
৬. মেসওয়াক করাকে দোষের মনে করা।
অথচ রোজা অবস্থায় মিসওয়াক করা জায়েজ, বরং সুন্নত।
৭. সাহরি বেশি দ্রুত বা বেশি দেরিতে খাওয়া।
সাহরি দেরিতে খাওয়া সুন্নত, তবে ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আর সাহরি করা যাবে না।
সাহরি ও ফজরের বিধান
৮. গোসল ফরজ হলে সাহরি খাওয়াকে দোষের মনে করা।
‘জুনুব’ অবস্থায় সাহরি খাওয়া ও রোজা রাখা সহিহ; শুধু ফজরের নামাজের আগে গোসল করা ফরজ।
৯. সাহরি না খেলে রোজা হয় না মনে করা।
সাহরি খাওয়া সুন্নত, ফরজ নয়। সাহরি না খেলেও রোজা সহিহ হয়।
১০. সাহরিতে খেজুর না খাওয়া।
খেজুর খাওয়া সুন্নত, বাধ্যতামূলক নয়। অন্য হালাল খাবারেও সাহরি করা যায়।
১১. সাহরিতে দোয়া-মুনাজাত না করা।
সাহরির সময় দোয়া কবুলের বিশেষ সময়—এটি অবহেলা করা উচিত নয়।
১২. থুতু গিললে রোজা ভেঙে গেছে মনে করা।
নিজের স্বাভাবিক থুতু গিলে ফেললে রোজা ভাঙে না।
১৩. ফজর পড়ে ঘুমানো।
ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমানো জায়েজ, কিন্তু নামাজ কাজা করে ঘুমানো মারাত্মক গুনাহ।
আরও পড়ুন:
ইফতার ও তারাবির আদব
১৪. মাগরিবের আজানের জবাব না দেওয়া।
আজানের জবাব দেয়া সুন্নত ও সওয়াবের কাজ।
১৫. তারাবিতে তাড়াহুড়ো করা।
খুশু-খুজু ছাড়া দ্রুত তারাবি পড়া রমজানের রুহ নষ্ট করে দেয়। চার রাকাত পরপর দোয়া করা জরুরি কিছু নয়।
১৬. রোজা রেখে সময় অপচয় করা।
অযথা গল্প, সোশ্যাল মিডিয়া ও নাটকে সময় নষ্ট করা রোজার বরকত কমিয়ে দেয়।
১৭. ইফতারদাতার জন্য দোয়া না করা।
ইফতার গ্রহণের পর ইফতারদাতার জন্য দোয়া করা সুন্নত।
শেষ দশকের ভুলসমূহ
১৮. ইতেকাফ না করা।
মাহে রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়া; সমাজে অন্তত কিছু মানুষের আদায় করা উচিত।
১৯. রোজার শেষ দিন কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকা।
শেষ দশক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়, অথচ আমরা তা হাটে-বাজারে নষ্ট করি।
২০. ফিতরা সময়মতো আদায় না করা।
ফিতরা ঈদের নামাজের আগেই আদায় করা ওয়াজিব; দেরি করলে গুনাহ হয়।
মাহে রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহভীতির মাস। রোজা সম্পর্কিত এই প্রচলিত ভুলগুলো সংশোধন করতে পারলে আমাদের রোজা হবে আরও প্রাণবন্ত, অর্থবহ ও কবুলের কাছাকাছি, ইনশাআল্লাহ।
লেখা : আমিন মুনশি
আরও পড়ুন:





