দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছুটা স্বস্তি মিললেও লোডশেডিং-গ্যাস সংকটে ব্যাহত জনজীবন

লোডশেডিং-গ্যাস সংকটে ব্যাহত জনজীবন
লোডশেডিং-গ্যাস সংকটে ব্যাহত জনজীবন | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, অধিকাংশ অঞ্চলে এখনো তীব্র লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

নেত্রকোণায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। জেলায় ১৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭৩ মেগাওয়াট। ফলে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, কুষ্টিয়ায় অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নাশকতার আশঙ্কায় ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাময়িকভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মিলমালিকরা অভিযোগ করছেন, এই অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখা, সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা এবং শ্রমিকদের মজুরি দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

উত্তরাঞ্চলে সাময়িক স্বস্তি

কিছুটা ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে উত্তরাঞ্চলে। নেসকোর আওতাধীন সৈয়দপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং দিতে হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নাটোরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাদের সাড়ে ৫ লাখ গ্রাহকের ১১৫ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করতে পেরেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় এসব অঞ্চলের বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছুটা গতি ফিরেছে।

তীব্র গ্যাস সংকট ও বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি দেশজুড়ে গ্যাস সংকট আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রামে দৈনিক ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৯০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই এই সংকট তৈরি হয়।

সংকটের প্রভাবে ফেনীর প্রায় সব ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ শূন্যে নেমে আসায় রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কুমিল্লার লাকসামে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি মাইকিং করে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে। সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস না পেয়ে চালকদের আয় কমে গেছে। গ্যাস সংকট নিরসন ও নতুন পাম্প স্থাপনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা, যার ফলে দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

এসএইচ