ইরানি হামলায় কাতারের ১৭ শতাংশ এলএনজি সক্ষমতা ধ্বংস, মেরামতে লাগবে ৫ বছর

কাতারের রাস লাফানে হামলা
কাতারের রাস লাফানে হামলা | ছবি: সংগৃহীত
2

ইরানি হামলায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি ক্ষমতার ১৭ শতাংশ অচল হয়ে গেছে, যার ফলে বার্ষিক আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের পর উৎপাদনে ফিরতে আরও অন্তত ৫ বছর সময় লাগবে। এতে করে ইউরোপ ও এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায়। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ) কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসভান্ডারের ইরানি অংশ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইল হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দেয় ইরান। এর পরই কাতার ও সৌদি আরবে ব্যাপক হামলা চালায় তেহরান।

এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান হলো বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এটি বারবার ইরানি হামলার শিকার হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, একের পর এক হামলায় কেন্দ্রটি এখন ‘ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত’।

আরও পড়ুন:

আজ ভোরে কাতারএনার্জি জানায়, এ কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি এলএনজি স্থাপনায় ‘বিশাল অগ্নিকাণ্ড’ ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে বুধবারও রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে হামলায় একটি ‘গ্যাস-টু-লিকুইড’ স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এ বিষয়ে কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি বলেন, ‘ইরানের হামলায় কোম্পানির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ উৎপাদনকারী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে।’

কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবি |ছবি: সংগৃহীত

রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি যে কাতার এবং এই অঞ্চল এ ধরনের হামলার শিকার হবে। বিশেষ করে রমজান মাসে একটি মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ আমাদের ওপর এভাবে হামলা চালাবে, তা ছিল অকল্পনীয়।’

আরও পড়ুন:

আল-কাবি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতারএনার্জি এই ক্ষয়ক্ষতির কারণে ইতালি, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনে এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মাজিউর’ বা অনিবার্য কারণজনিত অপারগতা ঘোষণা করতে বাধ্য হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোর জন্য ফোর্স মাজিউর ঘোষণা করতে হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে স্বল্পমেয়াদে এটি ঘোষণা করেছি। তবে এখন এ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত।’

আল-কাবি উল্লেখ করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত এই অবকাঠামোগুলো নির্মাণ করতে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল।

এসএস