গাজায় যুদ্ধবিরতি: দ্বিতীয় দফায় আসেনি কোনো সিদ্ধান্ত

মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন
0

প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের পর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আসেনি কোনো সিদ্ধান্ত। হামাসের শর্ত মেনে গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার না করে উল্টো সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পরিকল্পনা করছে তেল আবিব। এই যুদ্ধকে উস্কে দিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে তেলআবিবকে দিচ্ছে আরও ৩০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা।

শুরু থেকেই এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রায় অসম্ভব করে রেখেছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। যদিও চাইছিলেন ইসরাইলি বন্দিদের হামাসের কাছ থেকে মুক্ত করে আনতে। ৪২ দিনের এই যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে শনিবার (১ মার্চ)। দুইধাপের যুদ্ধবিরতি আরও ৪২ দিন কার্যকর থাকার কথা, যেখানে গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করে নেবে ইসরাইল, হামাস মুক্তি দেবে সব ইসরাইলি বন্দিকে। যদিও এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কোন আভাস মেলেনি। কায়রোতে আলোচনা থেকে আসেনি ফলপ্রসূ কোনো সমাধান। কাতার আর মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা এখনও চাইছেন কিছুদিন সময়।

হামাস বলছে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর শর্তে আলোচনায় যেতে চায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এরপরপরই নিরাপত্তা প্রধান এবং মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনর্বহাল না হওয়ার পরপরই ইসরাইল প্রস্তাব দিয়েছে, গাজায় যুদ্ধের আগের তুলনায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে। জাতিসংঘ আর উপত্যকায় ত্রাণ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোকে এই প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

তেল আবিব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামাসের শর্তে তারা রাজি না। আইডিএফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গাজা-মিশর সীমান্তের ফিলাডেলফি করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না তেল আবিব। জানানো হয়েছে, ত্রাণ প্রবেশের জন্য ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণেই খোলা থাকবে কেরেম শ্যালম ক্রসিং। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর গাজায় কাজ করতে হলে ইসরাইলের নিবন্ধিত হতে হবে। ইসরাইল জানিয়েছে, সব বন্দিকে মুক্তি দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত তার। এখনও পরিষ্কার নয়, প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কি হবে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনর্বহাল না হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলের কাছে আরও ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধাপে ধাপে দেয়া হবে এই সহায়তা। তেল আবিবকে দুই হাজার পাউন্ডের বোমা, চার হাজার বাঙ্কার বাস্টার বোমাসহ অন্যান্য অস্ত্র দেবে ওয়াশিংটন। পেন্টাগন জানায়, ২০২৬ সালে সরবরাহ শুরু হবে এই সমরাস্ত্রের। এরমধ্যে কিছু অস্ত্র দেয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থেকেই। দ্বিতীয় প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে ৬৭ কোটি ডলারের ৫ হাজার পিস এক হাজার পাউন্ডের বোমাও। তৃতীয় ধাপের ২৯ কোটি ডলারের অস্ত্র সহায়তার আওতায় থাকছে ক্যাটারপিলার বুলডোজার।

পুরো পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ বলছে, আগামী সপ্তাহে কায়রোতে আরব লীগের সম্মেলনে অংশ নেবেন মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস। যুদ্ধ পরবর্তী গাজা পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হবে এই সম্মেলনে। পাশাপাশি জোর দেয়া হবে যুদ্ধবিরতি আর বন্দি বিনিময় চুক্তি বহাল রাখার বিষয়ে।

এসএস