ধর্ম , এশিয়া
বিদেশে এখন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরবানির পশুর দাম আকাশচুম্বী

ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর দাম আকাশ ছুঁয়েছে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ঈদের একদিন আগেও বাজারে বাজারে ঘুরে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের গরু, ছাগল, উট কিংবা দুম্বা কিনতে পারছেন না বহু মানুষ। চরম অর্থনৈতিক সংকটে ঈদের আনন্দ স্পর্শ করতে পারেনি যুদ্ধকবলিত ফিলিস্তিনিদের।

আত্মত্যাগ আর আত্মশুদ্ধির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এবং আল্লাহ'র প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে প্রতি বছর ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি করেন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম। হজের আনুষ্ঠানিকতা সারতে শুধু হাজিদের জন্যই বছর বছর বিপুলসংখ্যক গবাদি পশু আমদানি করতে হয় সৌদি সরকারকে। তাও দেশটিতে বেড়ে চলেছে কোরবানির পশুর দাম। কারণ হিসেবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন সৌদি ব্যবসায়ীরা।

মধ্যপ্রাচ্যেই সাড়ে আট মাসের যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের অবস্থা তো আরও করুণ। গাজায় যুদ্ধের জেরে আর্থিক সক্ষমতা কমেছে অবরুদ্ধ পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদেরও। ইসরাইল থেকে চাকুরিচ্যুত হয়েছেন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা, অন্যদিকে সরকারি চাকরিতেও মিলছে না পুরো মাসের বেতন।

এমন পরিস্থিতিতে উৎসবের আমেজ অনেক দূরে, বরং ঈদে আরও বিপাকে বহু মানুষ। ব্যাপক দর কষাকষিতেও মিলছে না পছন্দের পশুটি। একেকটি ভেড়াই বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে হাজার ডলারে।

এক ফিলিস্তিনি নাগরিক বলেন, 'একটা ভেড়ার দাম ৩৩০০ শেকেল। এতো দামে একটা ভেড়া কেনার সামর্থ্য কার আছে? আল্লাহ দয়া করুন আমাদের ওপর। এতো কঠিন সময়। এই বছর কোনো আয়ই নেই আমাদের।'

ভিন্ন চিত্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ২২ কোটির বেশি মানুষ। ওয়েস্ট জাভা প্রদেশে সবচেয়ে বড় পশুর হাটটিতে দিনে ২০০ এর বেশি গরু, ৫০০ এর বেশি ছাগল আর ভেড়া বিক্রি করছেন ব্যাপারিরা, যা বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। ঈদের আগে পশুর দাম ২৫ শতাংশ বেড়ে গেলেও ভাটা পড়েনি ক্রেতাদের আগ্রহে।

ক্রেতারা বলেন, পশুর মান ভালো ও মাংস বেশি হলে, দাম যতো বেশিই হোক না কেন, আমরা কিনবো। ক্রেতার সন্তুষ্টিই আসল। এই বছর আগের বছরের চেয়েও বেশি গরু কিনেছি।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি এক বছরের ব্যবধানে ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ১২ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে গেলো মে মাসে। কিন্তু ঈদের আগে দেশটিতে পশুর বাজার গেলো বছরের চেয়েও চড়া। বিক্রেতারা জানান, কোরবানির পশুর ক্রেতা তো কমেছেই, যারা আসছেন তারা খুঁজছেন ছোট আর সস্তা পশু।

এক বিক্রেতা বলেন, 'গত বছর যে গরুটার দাম সর্বোচ্চ ১ লাখ রুপি ছিল, এ বছর সেটা বিক্রি হচ্ছে দেড় লাখ রুপিতে। মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার দাবি করছে সরকার। কিন্তু বাজারের চিত্র পুরো উল্টো। গত বছরের চেয়ে এবার পশুর দাম তিন গুণ বেশি।'

ইসলাম ধর্মে সবচেয়ে বড় দুই উৎসবের একটি পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিন পশু কোরবানি করে দুই-তৃতীয়াংশ মাংস আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু ও দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর