মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানি সংকটে ফিলিপিন্স-পাকিস্তানে বাড়ছে দুর্ভোগ

ফিলিপিন্সের ফিলিং স্টেশন
ফিলিপিন্সের ফিলিং স্টেশন | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপিন্স। দেশটিতে মাত্র দেড় মাসের জ্বালানি মজুত আছে। এরই মধ্যে তেলের দাম বাড়ায় কঠিন পরিস্থিতির মুখে গণপরিবহনের চালকরা। এদিকে, জ্বালানি সংকটে জীবিকা নিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে পাকিস্তানের রাইড শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারি চালকরা।

ফিলিপিন্স তাদের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৮ শতাংশ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এমন অবস্থায় যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি খাতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপিন্স। জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল ও অর্থনীতি রক্ষায় এ জরুরি অবস্থা এক বছর জন্য বলবৎ থাকবে। দেশটির জ্বালানি সচিব জানান, বর্তমানে ফিলিপিন্সে মাত্র দেড় মাসের জ্বালানি মজুত রয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে এরই মধ্যে জীবিকা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন গণপরিবহনের চালকরা। জ্বালানির দাম বাড়ালেও বাড়েনি পরিবহন ভাড়া। এতে কমেছে চালকদের দৈনিক আয়। ৫৩ বছর বয়সী গণপরিবহন এক চালক জানান, আগে যেখানে গাড়ির দৈনিক তেল খরচ ছিল ১৫ মার্কিন ডলার এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩৩ ডলারে।

স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘এটি খুবই কষ্টকর পরিস্থিতি। এই আয় দিয়ে সংসার চালানো খুব কঠিন আমাদের আয় দিন দিন কমছে। গাড়ি চালানো বন্ধ করে দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে, পাকিস্তানেও অনেকটা একই অবস্থা। জ্বালানি সংকটে জীবিকা নিয়ে হুমকির মুখে পড়েছেন রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল চালকরা। করাচি শহরের জনপ্রিয় রাইড শেয়ারিং বাইক দিয়ে অনেকের পরিবার চলে। তেলের দাম বাড়ায় আয় কমছে এসব চালকদের।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল চালকদের একজন বলেন, ‘খরচ চালানোর জন্য এখন একটা চাকরি যথেষ্ট নয়। এ পেশার পাশাপাশি এখন আমাদের অন্য কাজের সন্ধান করতে হবে।’

পাকিস্তানের ফুড ডেলিভারি রাইডাররাও পড়েছেন চরম দুর্দশায়। জ্বালানির দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে তাদের ফুড ডেলিভারিতেও। অনেকেই এই পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

এফএস