মুখপাত্র জানান, গত কয়েক দিনে ইরান, কাতার এবং লেবাননসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে হামলার বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ইরানের মিনাব এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী হতাহত হওয়ার খবরে গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
ইউনিসেফ এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক পৃথক বিবৃতিতে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধকালীন সময়েও বেসামরিক নাগরিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা বাধ্যতামূলক।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাতার ও ওমানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
কাতার ও ওমানের ওপর হওয়া হামলার নিন্দা জানিয়ে মহাসচিব বলেন, ‘যেসব দেশ সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত নয়, তাদের ওপর হামলার বিস্তার অত্যন্ত বিপজ্জনক লক্ষণ।’
আরও পড়ুন:
এদিকে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে গোলাগুলি এবং প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন। সেখানে অবস্থানরত শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিরাপদ রয়েছে এবং কোনো তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি শনাক্ত হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘের প্রটোকল অনুযায়ী কেবল রাষ্ট্রপ্রধান বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুতে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নিয়ম রয়েছে। ইরানের ক্ষেত্রে তাদের প্রেসিডেন্টই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃত।
ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষা সচিবের দেয়া বার্তার প্রেক্ষিতে ইরানি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মুখপাত্র বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ইরানের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।




