Recent event

উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ থেকে সরে এলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ থেকে সরে এলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ থেকে সরে এলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ |
0

সিদ্ধান্ত নেয়ার দেড় মাস পর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগের অবস্থান থেকে সরে এলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আপাতত বিদ্যমান অপারেটরই কাজ চালাবে বলে জানিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান। সদ্য বিদায়ী বছরে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড ৩২ লাখ ৭৫ হাজার টিইইউস কনটেইনার ও প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে। আগামীতে বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়াতে শতভাগ অটোমেশনে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সবচেয়ে বড় মেগা প্রকল্প বে টার্মিনালের চ্যানেল খনন ও স্রোতরোধী প্রাচীর নির্মাণ করতে মার্চেই চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে সাধারণ ছুটি, ইন্টারনেট শাটডাউনসহ নানা প্রতিকূলতায় সংকটে পড়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। এর মধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ব্যাহত হয় পণ্য ডেলিভারি।

সবকিছু ছাপিয়ে বন্দরের ইতিহাসে ২০২৪ সালে রেকর্ড ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। যা গেল বছরের তুলনায় ২ লাখ ২৫ হাজার একক বেশি। এতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে শতাংশ রেকর্ড হয়েছে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে। সব মিলিয়ে গেল বছরের চেয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। যাতে আয় হয়েছে ৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রযুক্তির প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই অর্জন বলেছেন বন্দর চেয়ারম্যান। এতে কমেছে জাহাজের অপেক্ষার সময় ও অবস্থানকাল। বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরো বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনে জোর দেয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, 'ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এনবিআর করছে। এবং আমরা ম্যারিটাইম উইন্ডো করতে যাচ্ছি। তাহলে আমরা আন্তর্জাতিক পোর্টের যে স্ট্যান্ডার্ড সেটা অর্জন করতে সক্ষম হবো।'

বছর শেষে অর্জন ও আগামী পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বন্দর চেয়ারম্যান জানান, আগামী ২ থেকে ৩ বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়বে ২ থেকে ৩ মিলিয়ন। এজন্য আমদানি রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় মোগা প্রকল্প বে টার্মিনালের ২০২৮ এ শেষ করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বে টার্মিনালের চ্যানেল খনন ও স্রোতরোধী প্রাচীর নির্মাণ করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হচ্ছে এপ্রিলে। তবে পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আপাতত বন্দরের সবচেয়ে বড় ও লাভজনক কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিতে অপারেটর নিয়োগে উন্মুক্ত দরপত্র হচ্ছে না বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, 'ওপেন টেন্ডারে গেলে এটা পার্টিসিপেটর হতে হবে, কম্পিটিটিভ হতে হবে, ইনডিস্ক্রিমিনেটরি হতে হবে এবং এটা ওপেন হতে হবে। ওই বিষয়গুলো আমরা বিবেচনায় রেখে যে পরিবর্তন আনা দরকার সে পরিবর্তনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।'

বন্দরের সক্ষমতা না বাড়লে দেশের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে মন্তব্য করে বলেন, অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ কাজের চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে শিগগির।

এসএস