মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের মধ্যেই গতকাল ( বৃহস্পতিবার, ১৩ মে) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টারে শুরু হয়েছে ব্রিকস দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দু’দিনব্যাপী সম্মেলন। সম্মেলনে যোগ দিতে এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভসহ অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে পৌঁছেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করছেন।
আসছে সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া এ সম্মেলন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক প্রভাব বেশ গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও আসন্ন বার্ষিক ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচি এখানেই নির্ধারণ করা হতে পারে। পাশাপাশি চলমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ছাড়াও জোটের সম্প্রসারণের আলোচনা এ সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
আরও পড়ুন
ইরানের তাসনিম নিউজ জানায়, ব্রিকসের মূল অধিবেশনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে ভারত নয়াদিল্লিতে ব্রিকস-এর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিশেষ দূতদের একটি বৈঠকের আয়োজন করে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরানের ত্রিমুখী সংঘাত কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, তা নিয়ে ইরান-সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতবিরোধের পর বৈঠকটি কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতও নিজেকে ইরানি আগ্রাসনের শিকার হিসেবে দেখে বলে জানায়। এরপর থেকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা কেবল বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ গ্লোবাল স্টাডিজের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল ডানফোর্ড আল জাজিরাকে জানান, ভারতে এ বৈঠকটি এমন এক কঠিন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ভারত- যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইরান- সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সংঘাতের কারণে ব্রিকস-এর সংহতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।




