সাধারণত রমজান মাসের পর হিজরি সনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মাস হলো এটি। এই মাসটিকে স্বয়ং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ‘আল্লাহর মাস’ (Month of Allah) বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, বছরের সব মাসই তো আল্লাহর, তাহলে মহররমকে কেন বিশেষভাবে আল্লাহর মাস বলা হলো?
আরও পড়ুন:
রসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে মহররমের মর্যাদা
ইসলামের পরিভাষায় মহররমকে ‘আল্লাহর মাস’ বলার মূল কারণ হলো এই মাসের বিশেষ ফজিলত, পবিত্রতা ও এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ। হাদীস শরিফে এই মাসের রোজাকে রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম ইবাদত বলা হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে (Muharram fasting Hadith) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন;
أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ
অর্থ: রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা (Best fasting after Ramadan)। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ তথা তাহাজ্জুদ (Tahajjud prayer benefits)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৬২৬)
আরও পড়ুন:
বিশেষভাবে ‘আল্লাহর মাস’ বলার মূল কারণসমূহ:
ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মতে, মহররমকে আল্লাহর মাস (Why Muharram is called Shahrullah) বলার পেছনে প্রধানত ৩টি বিশেষ কারণ রয়েছে:
বিশেষ সম্মান ও ফজিলত (Special status of Muharram): কোনো সাধারণ জিনিসকে যখন আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয় (যেমন: বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর), তখন তার মর্যাদা বহুগুণ বেড়ে যায়। মহররমের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
রমজানের পর শ্রেষ্ঠ রোজা (Best fasts after Ramadan): হাদিস অনুযায়ী, এই মাসে রোজা রাখার সওয়াব অন্য যেকোনো নফল মাসের চেয়ে বেশি।
তওবা কবুল হওয়ার মাস (Month of repentance acceptance): এই মাসে আল্লাহ তাআলা অতীতে একটি বিশেষ জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত গুনাহগারের তওবা কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
আশুরার রোজার ফজিলত ও সঠিক নিয়ম (Virtues of Ashura fasting rules)
মহররম মাসের নফল রোজার মধ্যে ১০ই মহররম তথা আশুরার রোজার ফজিলত (Rewards of Ashura Roza) সবচেয়ে বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর থেকে এই রোজা নিজে রেখেছেন এবং সাহাবিদের রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "আমি আল্লাহর রসুল (সা.)-কে রমজান ও আশুরার দিন (Fasting on 10th Muharram) যেমন গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময়ে তা দেখিনি।" (সহিহ বুখারি)
আশুরার রোজা কয়টি ও কীভাবে রাখবেন?
ইহুদিদের সংস্কৃতির সঙ্গে যেন মুসলিমদের ইবাদত মিলে না যায়, সেজন্য নবীজি (সা.) আশুরার দিনে ১টির বদলে ২টি রোজা রাখার (Sunnah way of Ashura fasting) নির্দেশ দিয়েছেন। আশুরার রোজা রাখার দুটি সঠিক নিয়ম হলো:
- ১ম পদ্ধতি (সর্বোত্তম): মহররমের ৯ এবং ১০ তারিখে রোজা রাখা (Fasting on 9th and 10th Muharram)।
- ২য় পদ্ধতি: মহররমের ১০ এবং ১১ তারিখে রোজা রাখা।
আরও পড়ুন:
মহররম মাসে তওবা কবুলের ঐতিহাসিক ঘটনা (History of Ashura and repentance)
মহররম মাসে কেবল কারবালার ঐতিহাসিক বিয়োগান্তক ঘটনাই ঘটেনি, বরং এর আগে এই মাসেই মানবজাতির ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ফয়সালা হয়েছে। হযরত মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইল জাতি এই ১০ই মহররমেই ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছিল।
গুনাহ মাফের ব্যাপারে জামে তিরমিজির একটি হাদিসে (Hadith on repentance in Muharram) এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "রমজানের পর যদি তুমি রোজা রাখতে চাও, তবে মহররম মাসে রাখো। কারণ এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন (Allah forgave nations on Ashura) এবং ভবিষ্যতেও অন্য জাতিগুলোর তওবা কবুল করবেন।" (জামে তিরমিজি)
তাই হিজরি নতুন বছরের শুরুতেই অন্যায়-অপরাধ ও পাপাচার থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য মহররমের আমল ও আশুরার রোজা রাখা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত বরকতময় একটি সুযোগ।
আরও পড়ুন:
একনজরে মহররম ও পবিত্র আশুরার গুরুত্বপূর্ণ আমল ও ফজিলত (Important Practices & Virtues of Muharram & Ashura at a Glance)
গুরুত্বপূর্ণ নোট: পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সম্মানিত ৪টি পবিত্র মাসের (আশহুরুম হুরুম) মধ্যে অন্যতম হলো মহররম। এই মাসে কোনো প্রকার অন্যায়, পাপাচার ও বিদআত থেকে নিজেকে দূরে রেখে অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার করা মুমিনদের কর্তব্য।
বিষয় ও আমল
(Topic & Practice)হাদিস ও ফজিলতের বিবরণ
(Hadith & Virtues Details)উৎস / রেফারেন্স
(Source / Reference)
মহররমের সাধারণ রোজা
রমজান মাসের পর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ হলো মহররম বা ‘আল্লাহর মাস’-এর নফল রোজা।
সহিহ মুসলিম
(হাদিস: ২৬২৬)
আশুরার রোজা (১০ই মহররম)
রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। নবীজি আশা করেছেন, এর মাধ্যমে বিগত ১ বছরের গুনাহ মাফ হয়।
সহিহ বুখারি ও মুসলিম
রোজা রাখার সঠিক নিয়ম
ইহুদিদের সাদৃশ্য বর্জন করতে মোট ২টি রোজা রাখা সুন্নাত।
১ম পদ্ধতি: ৯ ও ১০ই মহররম অথবা ২য় পদ্ধতি: ১০ ও ১১ই মহররম।সুনানে তিরমিজি
বিশেষ ইস্তিগফার ও তওবা
মহররমের এমন একটি দিন (আশুরা) রয়েছে, যাতে অতীতে একটি জাতির তওবা কবুল হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অন্য জাতির তওবা কবুল হবে।
জামে তিরমিজি
রাতের নফল নামাজ
ফরজ নামাজের পর মানুষের আদায়কৃত রাতের নফল নামাজ (তহাজ্জুদ) আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম ইবাদত।
সহিহ মুসলিম
আরও পড়ুন:


