আজ (শুক্রবার, ২৬ জুন) সকাল ১০টার কিছু পর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়া প্রাঙ্গণ থেকে এই মূল শোক মিছিলটি শুরু হয়।
হিজরি ৬১ সনের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) ১০ মহররম ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নির্মমভাবে শহিদ হন হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেই থেকে মুসলিম বিশ্বে এই দিনটি ত্যাগ ও শোকের প্রতীক।
সকাল থেকেই পুরান ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, নারীসহ নানা বয়সের মানুষ হোসেনী দালানে ভিড় করতে থাকেন। মিছিল শুরুর পর কারও চোখে অশ্রু, আবার কারও বুক চাপড়ানোর দৃশ্যে ফুটে ওঠে কারবালার সেই চিরন্তন বেদনার স্মৃতি। ইমামবাড়া থেকে বের হওয়া আশুরার এই প্রধান তাজিয়া মিছিলটি পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আজিমপুর ও নিউমার্কেট হয়ে ধানমন্ডি লেকের প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, কেবল কোভিড মহামারির সময়ে স্বাস্থ্য বিধিনিষেধের কারণে এই উন্মুক্ত মিছিল বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
মিছিলের নেতৃত্ব দেয়া পারভেজ রেজা বলেন, ‘প্রতি বছর এই দিনে আমরা মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনকে স্মরণ করি। ইসলামের জন্য তিনি ও তার পরিবারের যে আত্মত্যাগ, সেটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা মানুষকে মনে করিয়ে দিতে চাই, কী নির্মমতার মধ্য দিয়ে কারবালায় সত্যের পক্ষে থাকা মানুষগুলো শহিদ হয়েছিলেন।’
তবে এই আয়োজন ঘিরে কিছু সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে এটাকে বিদআত বলেন, মানুষকে শোক পালন থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু আমরা তো ইয়াজিদের বিরুদ্ধে আর ইমাম হোসাইনের পক্ষে অবস্থান নিয়েই এই শোক পালন করি। তাই এসব বন্ধ করতে চাওয়া খুবই দুঃখজনক।’
মিছিলে অংশ নেয়া হাজারীবাগের বাসিন্দা সামিনা রহমান তার বিশ্বাসের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার শাশুড়ি প্রতি বছরই আসেন। আমিও এখন তার সঙ্গে আসি। শোক পালনের পাশাপাশি ঘোড়ার পা ধোয়া দুধ সংগ্রহ করে গায়ে মাখি, বোতলে করে বাড়িতেও নিয়ে যাই। আমাদের বিশ্বাস, এতে মনের অনেক বাসনা পূরণ হয়।’ শিয়া সম্প্রদায়ের এই আয়োজনে সংহতি জানাতে কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা মাসুদ রানার মতো ভিন্ন মত ও পথের মানুষদেরও মিছিলে অংশ নিতে দেখা গেছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবার তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক স্তরের সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দারাও পুরো পথে দায়িত্ব পালন করেন।
ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, এবারের তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, তলোয়ার, বল্লম, কাঁটা, আতশবাজি ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু বহনে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা থাকায় শান্তপূর্ণ ও সংযতভাবেই মিছিলটি অগ্রসর হয়। এছাড়া মিছিলের রুটগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
অংশগ্রহণকারীদের মতে, কারবালা শুধু একটি প্রাচীন যুদ্ধের স্মৃতি নয়; এটি মূলত যুগে যুগে সত্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার চিরন্তন সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক।





