গতকাল (মঙ্গলবার, ১৬ জুন) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের (Baitul Mukarram National Mosque) সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
আরও পড়ুন:
আশুরার তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (Significance and History of Holy Ashura)
‘আশুরা’ একটি আরবি শব্দ, যা মূলত ‘আশারা’ শব্দ থেকে উৎপত্তিলাভ করেছে। এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে দশ। ইসলামি পরিভাষায়, হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলা হয় (10th day of Muharram)।
ইসলামের ইতিহাসে আশুরা দিবসে বহু স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা যেদিন আকাশ, বাতাস, পাহাড়-পর্বত, জান্নাত-জাহান্নাম, লাওহে মাহফুজ ও যাবতীয় সৃষ্টি-জীবের আত্মা সৃষ্টি করেছিলেন, সেই দিনটি ছিল ১০ মহররম।
এর পাশাপাশি এই দিনে হযরত মুসা (আ.) এবং তার অনুসারীরা ফেরাউনের অত্যাচার থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি পেয়েছিলেন। সহীহ বুখারির (হাদিস নং: ৩৩৯৭) বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় হিজরত করার পর ইহুদিদের এই দিনে রোজা রাখতে দেখেন। ফেরাউনের কবল থেকে মুসা (আ.)-এর মুক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ইহুদিরা এই রোজা রাখত। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে মুসলিমরা বেশি হকদার। এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং উম্মতকে রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম (Correct Method of Ashura Fasting)
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম হলো উম্মতকে দুটি রোজা রাখতে হবে (How many fasts for Ashura)। ইহুদিদের ধর্মীয় রীতিনীতির সাথে সাদৃশ্য বর্জন করার জন্য নবীজি (সা.) ১০ মহররমের পাশাপাশি তার আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
পবিত্র আশুরার নফল রোজা রাখার দুটি সঠিক পদ্ধতি হলো:
- মহররম মাসের ৯ এবং ১০ তারিখ রোজা রাখা (সর্বোত্তম পদ্ধতি)।
- অথবা মহররম মাসের ১০ এবং ১১ তারিখ রোজা রাখা।
সাপ্তাহিক ছুটিতে আশুরা: মিলছে না অতিরিক্ত সরকারি ছুটি (No Extra Government Holiday for Ashura 2026)
চলতি জুন মাসে পবিত্র আশুরা অনুষ্ঠিত হলেও এবার এই উপলক্ষে কোনো অতিরিক্ত বা বাড়তি ছুটি পাচ্ছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা (Government employees holiday update)।
অফিশিয়াল ছুটির তালিকা ২০২৬ অনুযায়ী, ২৬ জুন পবিত্র আশুরার সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। তবে এই দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ 'শুক্রবার' হওয়ায় সরকারি চাকুরিজীবী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আলাদা কোনো কর্মদিবসে ছুটি ভোগ করতে পারবেন না (Government office holiday calendar 2026)। সাধারণত নির্বাহী আদেশে আশুরার দিন দেশের সকল সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।
আরও পড়ুন:
একনজরে হিজরি ১৪৪৮ সনের পবিত্র আশুরা, রোজার নিয়ম ও সরকারি ছুটি (Holy Ashura 2026 Date, Fasting Rules & Official Holiday at a Glance)
ইহুদিদের সাথে অমিল রাখতে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাত অনুযায়ী ২টি রোজা রাখতে হবে:
১. পদ্ধতি ক: ৯ ও ১০ই মহররম রোজা রাখা (সর্বোত্তম)
২. পদ্ধতি খ: ১০ ও ১১ই মহররম রোজা রাখা
২৫ ও ২৬ জুন
চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা: ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সভাপতিত্বে বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত সভায় এই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বিষয়াবলী
(Topics)জাতীয় সিদ্ধান্ত ও শরিয়তের বিধান
(National Decisions & Islamic Rules)গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
(Important Dates)
মহররম মাসের সূচনা
(Moon Sighting Decision)জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৪৪৮ হিজরি সনের মহররম মাস গণনা শুরু হয়েছে।
১৭ জুন, ২০২৬
(বুধবার)
পবিত্র আশুরা উদযাপন
(10th of Muharram)১০ই মহররম তথা পবিত্র আশুরা দেশব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালিত হবে।
২৬ জুন, ২০২৬
(শুক্রবার)
আশুরার রোজা ২টি
(Fasting Methods)
(অথবা)
২৬ ও ২৭ জুন
সরকারি সাধারণ ছুটি
(Official Holiday)আশুরা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্রবার) হওয়ায় চাকুরিজীবীরা কোনো 'অতিরিক্ত ছুটি' পাচ্ছেন না।
২৬ জুন, ২০২৬
(সাপ্তাহিক ছুটি)
আরও পড়ুন:

