দেশে এখন

ঢাকা-খুলনা ও বরিশাল মহাসড়কে এক বছরে তিন শতাধিক মৃত্যু

ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল। গত এক বছরে মহাসড়ক দুটিতে ৪শ' ৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩শ' ২০ জন, আহত হয়েছেন ৫শ' ৯৪ জন।

অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালকের কারনেই ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। তবে হাইওয়ে পুলিশ বলছে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।  

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কানাইপুর নামক এলাকায় যাত্রীবাহী বাস এবং পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ ব্যক্তির প্রাণ হারায়। অতিরিক্ত গতির কারনেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহতের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা আরও দুজন বাড়িয়ে ৭ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে বুয়েটের একজন প্রকৌশলীকে এক্সপার্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত) মো. আলী সিদ্দিকীকে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

তদন্ত কমিটিতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের একজন করে প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে। পরে দুপুরে তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা আরও দুজন বাড়িয়ে সাত সদস্যবিশিষ্ট করা হয়। এদের মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি সাত সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।  তবে তদন্ত কমিটির সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ নাম পরিচয় জানা যায়নি।

এর আগে গত ৮ মার্চ ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে ৩ জন মারা গেছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সদরদী বাবলা তলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও জানুয়ারিতে দুটি দুর্ঘটনায় ফরিদপুরে মহাসড়কে নয় জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। 

যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, মোটরসাইকেলের অনিয়মতান্ত্রিক চলাচল ও পথচারী পারাপারের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে বলে মনে করছেন হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ে বা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার এবং জাজিরা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার। গত একবছরে এক্সপ্রেসওয়েতে ১৩৫টি দুর্ঘটনায় ১৩১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ভাঙ্গা অংশে ৬৩টি দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৯৪ জন। 

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার জানান, মঙ্গলবারের দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জন নিহত ও ৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। পরে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ৫ লাখ এবং আহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ৩ লাখ করে টাকা দেওয়া হবে।

হাইওয়ে পুলিশ মাদারীপুর রিজিওনের আওতাধীন ৩শ' ৮১ কিলোমিটার মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ৫টি হাইওয়ে থানা, একটি ফাঁড়ি ও দুইটি ক্যাম্প। 

হাইওয়ে পুলিশ মাদারীপুর রিজিওন ফরিদপুর কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান জানান, সড়ক দুর্ঘটনারোধে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গত এক বছরে মহাসড়ক দুটিতে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে যানবাহন চালানোর দায়ে ২৮ হাজার ৪শ' ৪টি যানবাহন মালিককে মামলা দিয়ে ৯ কোটি ৪৩ লাখ ২৬ হাজার ২শ' টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক দুটিতে গত এক বছরে ৪শ' ৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২শ'৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফরিদপুর পুলিশ সুপার মোর্শেদ আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, 'সড়কে আমাদের চলাচলে আরও সচেতন হতে হবে, তা না হলে থামবে না মৃত্যুর মিছিল। শুধু যাত্রীদেরই নয় মালিক ও শ্রমিকদের বড় ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়াও মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে মহাসড়ক ব্যবহার করার ক্ষেত্রে। 

ইএ

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর