Recent event

সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনে বিএনপির অনড় অবস্থান; গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে দলটির অবস্থান কী হবে?

গণভোটে হ্যাঁ-না
গণভোটে হ্যাঁ-না | ছবি: এখন টিভি
0

বিএনপির দেয়া ইশতেহারে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রয়েছে। তবে দলটি বলছে, তারা গত অক্টোবরে স্বাক্ষর অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। বিএনপি সংস্কার আলোচনার শুরু থেকেই সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলে আসছে। দলটির অভিযোগ, তাদের উপেক্ষা করেই মোট ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হয়েছে গণভোটের প্রশ্ন। সবশেষ, ইশতেহারে নিজ দলের অবস্থানে ‘অটল’ থাকায় গণভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিএনপি জয়লাভ করলে ‘রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট’ তৈরি হবে।

সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজন সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন। ২০০৮ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পায় ২৩০টি আসন। যা মোট আসনের ৭৬ শতাংশ। কিন্তু দলটি সারা দেশে ভোট পেয়েছিল ৪৮ শতাংশ। আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার এ সুযোগে তারা বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। সেই থেকেই দেশের রাজনীতিতে শুরু হয় সংকট।

ভবিষ্যতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আর কেউ যেন এভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে না পারে; সেজন্য ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রধান্য পায় উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি।

গণভোটের ব্যালটেও আলাদাভাবে এসেছে উচ্চকক্ষের প্রসঙ্গটি। প্রাপ্তভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন হলে বিরোধী দলগুলো প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে সরকারি দলের স্বৈরাচার হয়ে ওঠার পথ বন্ধ হবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়ারেসুল করিম বলেন, ‘দুই দলীয় পদ্ধতিতে মাত্র ২৩ শতাংশ ভোট পেয়ে আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারেন। এমনকি, ৪০ থেকে ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েও প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আসনে জিতে যেতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘বরাবরই যে লোয়ার হাউজের ক্ষমতাসীন দল আপার হাউজেও ক্ষমতাসীন। তাহলে লোয়ার হাউজে কোনো বিল তো আবার আপার হাউজে ফারদার রিডিংয়ের তো কোনো দরকার নেই, কারণ তাদের তো অন্যদিকে ভোট দেয়ার কোনো স্কোপ নেই, সে তো আপনার দলের মানুষ। তাহলে আপনার দলের মানুষ থেকে একই যাত্রায় আমি ভিন্ন ফল কেন আশা করবো?’

আরও পড়ুন:

তবে, শুরু থেকেই নিম্নকক্ষের আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলে আসছে বিএনপি। সবশেষ প্রকাশিত নির্বাচনের ইশতেহারেরও দলটি আগের অবস্থানে অটল রয়েছে।

নির্বাচিত সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় এড়াতে চাইলে নতুন সংকট তৈরি হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

নাগরিক কোয়ালিশনের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান সাধারণ ভোটারদের কাছে একটা আবেদন জানিয়েছেন ভোট দেয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে বিএনপি কিন্তু এই গণভোটের আপার হাউজ পিয়ারের ব্যাপারটা স্বীকার করে নিয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহারে সেটার থেকে ভিন্ন একটা জিনিস বলা হয়েছে, তো সেটা আসলে আমরাও পরিষ্কার নয় যে, দলগত অবস্থানটা আসলে ফাইনালি কী দাঁড়াচ্ছে! সেক্ষেত্রে একটা সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক সংকট দুটোই আসলে সামনের দিনগুলোতে তৈরি হতে পারে।’

ভিন্নমত থাকলেও বেশ কিছু বিষয়ে দলটির একমত হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আলাপ-আলোচনা হবে, বিতর্ক হবে, সেটা আমি খাটো করছি না। সংসদেও হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদেও হবে, হবেই—এটাই গণতন্ত্র। জুলাই জাতীয় সনদে যেটা আছে, সেটা কী? সেটা হচ্ছে, একদল নিম্নকক্ষে দুই তৃতীয়াংশ পেলেই করতে পারবেন না, সেটা উচ্চকক্ষে যাবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। ভোটের সংখ্যানুপাত হলে কী হবে? তখন একটি ডাইভার্সিটি তৈরি হবে।’

জুলাই সনদে বলা আছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পাশ হলে নির্বাচিত সংসদ নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৮০ দিন ‘সংবিধান সংস্কার সভা’ হিসেবে কাজ করবে।

একদিকে গণভোটের অঙ্গীকার, আরেকদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহার; যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পাশ হয় এবং যারা মোট ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের বিরোধিতা করছেন; তারা যদি নির্বাচিত হয়, তাহলে তারা কোনটি অনুসরণ করবে? দলীয় ইশতেহার নাকি জনতার রায়?—এমন প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনি মাঠে।

এসএইচ