লন্ডন ও নিউইয়র্ক বাজারের প্রভাব (Impact of London and New York Markets)
বিশ্বে স্বর্ণের পাইকারি দামের প্রধান মানদণ্ড নির্ধারিত হয় লন্ডনে। লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন (LBMA) দিনে দুবার বড় বড় ব্যাংকগুলোর (যেমন: গোল্ডম্যান স্যাকস, জেপি মরগ্যান) মাধ্যমে নিলাম পদ্ধতিতে স্বর্ণের বৈশ্বিক মূল্য নির্ধারণ করে। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের কমেক্স (COMEX) বাজারে মূলত ফিউচার্স ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে স্বর্ণের তাৎক্ষণিক বা স্পট প্রাইস (Spot Price) নির্ধারিত হয়। মার্কিন ডলারের উত্থান-পতন এবং সুদের হারের পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে এই বাজারে দাম দ্রুত ওঠানামা করে।
আরও পড়ুন:
স্বর্ণের দাম নির্ধারণের ৫টি প্রধান কারণ (5 Key Factors Influencing Gold Rates)
১. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ (Central Bank Reserves): বিশ্বের বড় বড় দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত) যখন বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের মজুদ (Gold Reserve) বাড়ায়, তখন বাজারে সরবরাহে টান পড়ে এবং দাম বেড়ে যায়।
২. সুদের হার ও মুদ্রাস্ফীতি (Interest Rates and Inflation): যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার (Interest Rate) কমায় অথবা দেশে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) বাড়ে, তখন মানুষ কাগুজে মুদ্রার চেয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ করাকে নিরাপদ মনে করে।
৩. মার্কিন ডলারের মান (US Dollar Value): আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা হয় ডলারে। তাই ডলার ইনডেক্স (Dollar Index) শক্তিশালী হলে অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার প্রভাব দামে পড়ে।
৪. চাহিদা ও জোগান (Supply and Demand): খনি থেকে উত্তোলিত স্বর্ণের পরিমাণ এবং অলংকার শিল্পে এর চাহিদার ভারসাম্য দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
৫. ভূ-রাজনৈতিক সংকট (Geopolitical Crisis): যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা (Investors) শেয়ার বাজার ছেড়ে স্বর্ণের দিকে ঝোঁকেন, যাকে বলা হয় সেফ হ্যাভেন (Safe Haven Asset)।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা (Long-term Financial Security)
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণ কেবল একটি অলংকার নয়, এটি আর্থিক দুর্যোগের বীমা। দীর্ঘমেয়াদে যারা আর্থিক অনিশ্চয়তা (Financial Uncertainty) থেকে বাঁচতে চান, তাদের পোর্টফোলিওতে স্বর্ণ রাখা অপরিহার্য।
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম যেভাবে নির্ধারিত হয় (Gold Price Setting in Bangladesh)
বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম সরাসরি কোনো সরকারি সংস্থা নির্ধারণ করে না। বরং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (BAJUS) স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম ঘোষণা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বাজুস মূলত দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে দাম সমন্বয় করে:
১. আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট প্রাইস (International Spot Price): বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের তাৎক্ষণিক মূল্য কত বাড়ছে বা কমছে।
২. স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের দাম (Pure Gold Price): দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবী স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার বর্তমান অবস্থা।
বিনিয়োগকারীদের জন্য টিপস: স্বর্ণের দাম যখন রেকর্ড উচ্চতায় থাকে, তখন বড় বিনিয়োগের আগে বাজার পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। তবে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার জন্য স্বর্ণ কেনা সবসময়ই লাভজনক।
এসআর





