জিয়ারত শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজ সেই দিন, ২০২৪ সালের এই দিনে এই রংপুরের মাটিতে রংপুরের সন্তান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্র আবু সাইদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক হিসেবে তৎকালীন স্বৈরাচারী হাসিনার দমন নীতির বিরুদ্ধে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বুলেট বুকে নিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। তার শাহাদাতের মধ্য দিয়ে গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লবের যাত্রা শুরু হয়। আবু সাইদ আমাদের শহিদদের ইমাম, এই জুলাই বিপ্লবের রুহানি নেতৃত্ব, আবু সাইদ আমাদের সবার পূর্বসূরী।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে, যে হাজারো প্রাণ অকাতরে বলিদান হয়েছে সেসব প্রাণের অগ্রসেনানী ছিলেন আবু সাইদ। আবু সাঈদের এই শাহাদাত বরণকে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আমরা তার জন্য দোয়া করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের পাশাপাশি শহিদ মুগ্ধ, শহিদ ওয়াসিম, শহিদ ফারহান ফাইয়াজ, শহিদ নাঈমা সুলতানা, শহিদ রিয়া গোপ, শহিদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ যে হাজারো ভাই-বোনে শহিদ হয়েছেন এবং ত্রিশ হাজার আহত হয়েছেন, আমরা সবাইকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমরা স্মরণ করছি, শহিদ আবু সাঈদের শাহাদাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে যেসব শ্রমিক, পেশাজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক, আলেম সমাজ, নারী, প্রবাসী ভাই-বোন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন আমরা তাদের স্মরণ করছি।’
আরও পড়ুন:
শহিদদের শ্রদ্ধায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আজকের এই দিনে শুধু স্মরণ আর শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে নয়, যে কারণে আবু সাইদরা যে কারণে শহিদ হয়েছেন, আমরা তাদের উত্তরসূরী, আমাদের দায়িত্ব সে নতুন বাংলাদেশ, বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ, আমাদের সেই ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাওয়া।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘জুলাইয়ের পরে আমাদের দায়িত্ব, বিচার সংস্কার এবং নির্বাচন, আমরা দেখেছি, নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু বিচার এবং সংস্কার এখনো বাংলাদেশের জনগণ পায়নি। আবু সাইদের মামলার রায় হয়েছে, কিন্তু রায় এখনো কার্যকর করা হয়নি। সে মামলার আপিল হয়েছে, আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ রায় কার্যকর দেখতে চাই। আবু সাঈদের মামলার আসামি শেখ হাসিনা, আমরা আসা করব সরকার দ্রুত শেখ হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করবে।’
শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এনসিপির নেতারা। এসময় তারা শহিদ পরিবারের সদস্যদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।





