তবে করযোগ্য আয় নেই এমন লাখ লাখ বাইক মালিকের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন (TIN) না থাকায়, এই কর ঠিক কোন পদ্ধতিতে আদায় করা হবে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর (Finance Minister Amir Khosru Mahmud Chowdhury) সাথে এনবিআর কর্মকর্তাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই কর আদায়ের রোডম্যাপ ও প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
যেভাবে আদায় হতে পারে বাইকের অগ্রিম আয়কর (Proposed Collection Methods)
এনবিআরের বাজেট প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, অগ্রিম আয়কর আদায়ের জন্য মূলত দুটি ভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে:
১. টিইএন (TIN) নম্বরের বাধ্যবাধকতা: প্রথম পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেক বাইক মালিকের টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। টিন নম্বরের বিপরীতেই এই এআইটি (AIT) আদায় করা হবে, যাতে করে বিপুল সংখ্যক চালক ধীরে ধীরে দেশের মূল ট্যাক্স সিস্টেমের মধ্যে চলে আসেন।
২. ট্যাক্স টোকেনের সাথে আদায় (টিন নম্বর ছাড়া): বাইকারদের হয়রানি ও ঝামেলা কমাতে বিকল্প আরেকটি চিন্তাও রয়েছে। বর্তমানে বিআরটিএ (BRTA) থেকে যেভাবে প্রতি বছর বার্ষিক ট্যাক্স টোকেন (Tax Token) নবায়ন করা হয়, সেই ফি’র সঙ্গেই অগ্রিম আয়করের টাকা একবারে যুক্ত করে আদায় করা হতে পারে। এতে যাদের ন্যূনতম করযোগ্য আয় নেই, তাদের আলাদা করে টিন নম্বর নেওয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান এই চিন্তাকে ইতিবাচক ও যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, "আয়ের দিক থেকে করের ন্যূনতম ধাপে না থাকলেও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য বাইক মালিকদের করের আওতায় আনা দরকার। তবে করের হারটি অবশ্যই সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে (Reasonable Tax Rate) হতে হবে।"
কোন সিসির মোটরসাইকেলে কত টাকা ট্যাক্স? (Expected Motorcycle Tax Rates Based on CC)
আগামী জুন মাসে জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন, তাতে সিসি (Engine Capacity) অনুযায়ী অগ্রিম আয়করের সম্ভাব্য হার নিচে দেওয়া হলো:
১১০ সিসি পর্যন্ত (Up to 110cc): সাধারণ মানুষের ব্যবহারের কথা চিন্তা করে এই ধাপে অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ আওতামুক্ত বা ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
১১১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি (111cc to 125cc): এই শ্রেণির বাইকের জন্য বার্ষিক সর্বনিম্ন কর ২,০০০ টাকা হতে পারে।
১২৬ সিসি থেকে ১৬৫ সিসি (126cc to 165cc): মধ্যম সারির এই সেগমেন্টের বাইকের জন্য বছরে ৫,০০০ টাকা কর নির্ধারণের আলোচনা চলছে।
১৬৫ সিসির বেশি (Above 165cc): উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বা হাই-সিসি বাইকের ক্ষেত্রে বছরে ১০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
অটোরিকশার জন্যও নতুন করের প্রস্তাব (Advance Tax for Auto-Rickshaws)
মোটরসাইকেলের পাশাপাশি দেশের ব্যাটারিচালিত ও সাধারণ অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে লাইসেন্স সংগ্রহের সময় এই কর পরিশোধ করতে হবে:
- সিটি করপোরেশন এলাকা: বার্ষিক কর ৫,০০০ টাকা।
- পৌরসভা এলাকা: বার্ষিক কর ২,০০০ টাকা।
- ইউনিয়ন পর্যায়: বার্ষিক কর ১,০০০ টাকা।
বাইক চালকদের তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ (Protests from Motorcycle Owners & Riders)
এদিকে মোটরসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনার খবর আসতেই রাইড শেয়ারিং (Ride Sharing) ও ফুড বা প্রোডাক্ট ডেলিভারি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রবিবার বাইক মালিক ও চালকেরা আগারগাঁওয়ে এনবিআর প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এবং কর বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম (Motorcycle Price in Bangladesh) এমনিতেই আকাশচুম্বী। তার ওপর এই অতিরিক্ত করের বোঝা সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
আরও পড়ুন:
একনজরে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সম্ভাব্য অগ্রিম আয়কর তালিকা (Quick Guide: Proposed AIT Structure)





