দেশের বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে লোডশেডিং; ক্ষতির মুখে কৃষি-ব্যবসা-বাণিজ্য

মোমবাতির আলোতে কাজ করছেন এক ব্যবসায়ী
মোমবাতির আলোতে কাজ করছেন এক ব্যবসায়ী | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের অন্যান্য জেলাতেও হচ্ছে লোডশেডিং। দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎনির্ভর ছোটবড় ব্যবসা-বাণিজ্য। বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি উৎপাদনেও। হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে খামারের মুরগি।

গ্রীষ্মের দাবদাহে ঘন ঘন লোডশেডিং। প্রচণ্ড গরমে বাড়ছে ভোগান্তি। হিট স্ট্রোকে মরছে খামারের মুরগি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কারখানা ও সেচ নির্ভর কৃষি উৎপাদন। জ্বালানি সঙ্কটে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম।

সিলেট নগরীর স্থানীয়রা জানান, কোনো কাজ করতে পারছেন না তারা। কৃষি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সেচ কাজ করতে পারছেন না তারা।

সিলেটে গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত। প্রতিদিন কোন কোন এলাকায় গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে বিদ্যুৎহীন। ভাটা পড়েছে ব্যবসা বাণিজ্যে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, কারেন্ট গেলে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে না। দোকানে ক্রেতারা পাচ্ছেন না তারা।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৭৭ মেগাওয়াট। মিলছে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট। বাকি প্রায় পৌনে ২০০ মেগাওয়াট ঘাটতির দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জেলাবাসীকে।

আরও পড়ুন:

নাটোরে দিনে-রাতে গড়ে মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা থাকছে বিদ্যুৎ। বাকিটা সময়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় চলে লোডশেডিং। গরমে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মুরগির খামার। প্রতিদিনই হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে বয়লার, লেয়ার ও পোল্ট্রি মুরগি। কমে যাচ্ছে ডিম ও মাংস উৎপাদনের পরিমাণ। শেড ঠান্ডা রাখতে জেনারেটরের সাহায্যে ফ্যান এবং বিকল্প উপায়ে পানি ছিটানোর চেষ্টা করছেন খামারিরা।

খামারিরা জানান, প্রতিদিনই খামারে ২ থেকে ৪টি করে মুরগী মারা যাচ্ছে। তাদের ব্যবসায়ে ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দিনাজপুরে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ। গত কয়েক দিন গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা করে লোডশেডিং হলেও শনিবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ঘণ্টা পর্যন্ত। এতে শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ। প্রখর রোদে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। দুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে দিনাজপুরের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কবলে নোয়াখালী। প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। শহরের তুলনায় গ্রামীণ জনপদে বাড়ছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে মন্দা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিল্পাঞ্চলে নষ্ট হচ্ছে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা।

জেলায় পল্লিবিদ্যুতের গ্রাহক ৮ লাখ ২০ হাজার। পিক আওয়ারে প্রতিদিন চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট। সরবরাহ আছে গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। এতে বাড়ছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা।

এফএস