৮ম পে কমিশন: প্রতিবেদন জমার যতোদিন পর গেজেট হয়েছিলো? (একনজরে অষ্টম বনাম নবম পে স্কেল)
তুলনামূলক তথ্য
অষ্টম পে স্কেল (২০১৫)
নবম পে স্কেল (২০২৬)
প্রতিবেদন জমা (Submission)
১৩ মে, ২০১৫
২১ জানুয়ারি, ২০২৬
গেজেট প্রকাশ (Gazette Notice)
১৫ ডিসেম্বর ২০১৫
প্রক্রিয়াধীন (Processing)
গেজেট হতে সময় লেগেছিল
৭ মাস ২০ দিন
প্রক্রিয়াধীন
সর্বনিম্ন বেতন (Minimum)
৮,২৫০ টাকা
২০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ বেতন (Maximum)
৭৮,০০০ টাকা
১,৬০,০০০ টাকা
আরও পড়ুন:
অষ্টম পে স্কেল: প্রতিবেদন থেকে গেজেটের দূরত্ব (Experience of 8th Pay Scale)
অতীতের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, অষ্টম জাতীয় পে স্কেলের (8th National Pay Scale) সুপারিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালের ১৩ মে। সেই প্রতিবেদন জমার প্রায় ৭ মাস ২০ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে গেজেট দেরিতে হলেও তা ভূতাপেক্ষভাবে (Retrospectively) ওই বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছিল। অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীরা কয়েক মাসের বকেয়া বেতন (Arrears of Pay) একসঙ্গে পেয়েছিলেন।
ফরাসউদ্দিন কমিশনের সুপারিশ ও গেজেটের পার্থক্য
তৎকালীন পে কমিশন প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে ১৬টি ধাপে বেতন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। ফরাসউদ্দিন কমিশনের মূল সুপারিশ ছিল সর্বোচ্চ ৮০ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২০০ টাকা। তবে গেজেট প্রকাশের সময় সরকার তা কিছুটা পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল।
আরও পড়ুন:
বাস্তবায়ন ও বকেয়া বেতন নিয়ে তৎকালীন সিদ্ধান্ত
প্রতিবেদন ও গেজেট কার্যকরের পর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত জানিয়েছিলেন যে, নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে চাকরিজীবীরা ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসের বেতন নতুন কাঠামোতে পেয়েছিলেন।
বকেয়া বেতন (Arrears Salary): পাঁচ মাসের বকেয়া বেতনের অর্ধেক দেওয়া হয়েছিল ডিসেম্বরের বেতনের সাথে এবং বাকি অর্ধেক দেওয়া হয়েছিল ২০১৬-র জানুয়ারির বেতনের সাথে।
ভাতা (Allowances): মূল বেতন দ্রুত কার্যকর হলেও ভাতাগুলো দেওয়া শুরু হয়েছিল পরবর্তী বছরের অর্থাৎ ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই থেকে।
আরও পড়ুন:
নবম পে স্কেল: এবার কী আছে নতুন? (What's New in 9th Pay Scale)
২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশন নির্ধারিত সময় ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর আগেই ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এবারের প্রস্তাবনায় কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনা হয়েছে:
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন (Minimum and Maximum Salary): এবারের প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন বেতন ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১,৬০,০০০ টাকা।
বেতন বৈষম্য হ্রাস (Reducing Pay Gap): বেতন অনুপাত ১:৮ (Salary Ratio 1:8) নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন এবং বৈষম্যহীন। ১৯৭৩ সালে এই অনুপাত ছিল ১:১৫.৪।
বাজেট সাশ্রয় (Budget Saving): অবাক করার মতো তথ্য হলো, কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ (18% of Budget) ব্যয় করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
আরও পড়ুন:
বাস্তবায়ন ও গেজেট প্রকাশের সময়সীমা (Implementation & Gazette Timeline)
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অষ্টম পে স্কেলের মতো এবারও গেজেট প্রকাশ ও চূড়ান্ত বাস্তবায়নে (Implementation Process) কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখে সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা (Employees Expectation), এবার আগের চেয়ে অনেক দ্রুত গেজেট প্রকাশিত হবে।
একনজরে ৯ম বেতন স্কেলে কোন গ্রেডে বেতন কত (গ্রেডভিত্তিক চূড়ান্ত তালিকা)
নবম পে স্কেল ২০২৬-এর ২০টি গ্রেডের সুপারিশকৃত সরকারি কর্মচারীদের জন্য ১:৮ অনুপাতে সর্বনিম্ন ২০,০০০ এবং সর্বোচ্চ ১,৬০,০০০ টাকা ধরে মূল বেতন তালিকা (Proposed Grade-wise Salary List) নিচে দেওয়া হলো:
গ্রেড (Grade)
বর্তমান মূল বেতন (৮ম স্কেল)
সুপারিশকৃত মূল বেতন (৯ম স্কেল)
১ম গ্রেড
৭৮,০০০ টাকা (নির্ধারিত)
১,৬০,০০০ টাকা
২য় গ্রেড
৬৬,০০০ টাকা
১,৩২,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড
৫৫,৫০০ টাকা
১,১৩,০০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড
৫০,০০০ টাকা
১,০০,০০০ টাকা
৫ম গ্রেড
৪৩,০০০ টাকা
৮৬,০০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড
৩৫,৫০০ টাকা
৭১,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড
২৯,০০০ টাকা
৫৮,০০০ টাকা
৮ম গ্রেড
২৩,০০০ টাকা
৪৭,২০০ টাকা
৯ম গ্রেড
২২,০০০ টাকা
৪৫,১০০ টাকা
১০ম গ্রেড
১৬,০০০ টাকা
৩২,০০০ টাকা
১১তম গ্রেড
১২,৫০০ টাকা
২৫,০০০ টাকা
১২তম গ্রেড
১১,৩০০ টাকা
২৪,৩০০ টাকা
১৩তম গ্রেড
১১,০০০ টাকা
২৪,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড
১০,২০০ টাকা
২৩,৫০০ টাকা
১৫তম গ্রেড
৯,৭০০ টাকা
২২,৮০০ টাকা
১৬তম গ্রেড
৯,৩০০ টাকা
২১,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড
৯,০০০ টাকা
২১,১০০ টাকা
১৮তম গ্রেড
৮,৮০০ টাকা
২১,০০০ টাকা
১৯তম গ্রেড
৮,৫০০ টাকা
২০,৫০০ টাকা
২০তম গ্রেড
৮,২৫০ টাকা
২০,০০০ টাকা
আরও পড়ুন:
