হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি শর্তের প্রথম ধাপ সম্পন্ন, ট্রাম্পের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশুকে কোলে নিয়ে এক মা
ফিলিস্তিনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে শিশুকে কোলে নিয়ে এক মা | ছবি: আল জাজিরা
0

সবশেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হামাস-ইসরাইলের প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতির সব শর্ত। পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নের পথ পরিষ্কার এবং শর্ত অনুযায়ী খুলে দেয়া হচ্ছে রাফাহ সীমান্ত। এ ঘটনায় নিজের প্রতিনিধিদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজ বলছে, অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ভূঁয়সী প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহুও।

৮৪০ দিনেরও বেশি সময় পর গাজা থেকে উদ্ধার হলো ইসরাইলি জিম্মি পুলিশ অফিসার রান গিভিলির মরদেহ। ধারণা করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তাকে অপহরণ করে হামাস। গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের মধ্যে দিয়ে গাজায় জিম্মি থাকা জীবিত ও মৃত ২৫১ জনের সবাইকে ফেরানো হয়েছে। এদিকে একই সময়ে জীবিত নয় ফিলিস্তিনি বন্দীকে ফেরত দিয়েছে ইসরাইল। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের সব শর্তই কার্যত শেষ হলো।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খুলে দিচ্ছে ইসরাইল। চলতি সপ্তাহেই তা খুলে দেয়া হতে পারে হবে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি। এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, কেবল মানুষের যাতায়াত ও সীমিত আকারে ত্রাণ সহায়তার প্রবেশ সুযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছে ইসরাইল। পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে ইসরাইলকে চাপ দিতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

সবশেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। এসময় তিনি বলেন, গাজা যুদ্ধ শেষ করার ট্রাম্পের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ হলো। গাজায় কোনো জিম্মি নেই বলে ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেটে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেতানিয়াহু।

আরও পড়ুন:

পুরো প্রক্রিয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু।

বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘চিরকাল স্মরণীয় থাকবে যারা হামাসের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। তারা সবাই বীর। জীবিত ও মৃত সব জিম্মিদের বন্দী ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে ইসরাইল। কারো বিশ্বাস ছিল না যে সব বন্দীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। ট্রাম্পের সহায়তায় এবং ইসরাইলি সেনাদের সাহসী পদক্ষেপ তা সম্ভব হয়েছে।’

সবশেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিজের প্রতিনিধি দলকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ট্রাম্পও। এদিকে হোয়াইট হাউজ বলছে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন ল্যাভিট বলেন, ‘গাজায় অবশিষ্ট কোনো জিম্মি নেই। সব ইসরাইলি জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এটি ইসরাইল ও স্পষ্টতই সমগ্র বিশ্বের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি বিশাল বৈদেশিক নীতির কৃতিত্ব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। যা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য দুর্দান্ত খবর।’

এদিকে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন ফিলিস্তিনিরা। তাদের আশা, এবার বন্ধ হবে হত্যাযজ্ঞ, পাবেন সহায়তা।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথ পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন গাজাবাসী। তাদের বিশ্বাস ফিলিস্তিনের জন্য গঠিত নতুন টেকনোক্রেট কমিটি গাজার মানবিক সংকট দূর করে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এসএস