ইরানের দিকে বিশাল রণতরী পাঠানোর ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চরম উত্তেজনা বইছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। ট্রাম্প জানান, যুদ্ধের বিশাল সাজোয়া নৌবহর আর্মাদা ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে সরিয়ে পারস্য উপসাগরের দিকে নেয়া হচ্ছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ। যদিও ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে এগুলো ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। সতর্কতামূলক প্রস্তুতির অংশ এটি।
তবে যেকোনো হামলার জন্য নিজেদের পুরোদমে প্রস্তুত রেখেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিলে এর কড়া জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে খামেনি প্রশাসন। পূর্ণ সতর্কাবস্থায় আছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও। ইরানে আক্রমণ হলে, এর জবাব হবে ভয়াবহ। ইরানি কর্মকর্তারা হুঙ্কার দিয়েছেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলও ধ্বংসের মুখে পড়বে।
এদিকে তেহরানের রাজপথে বিলবোর্ডের শোভা পাচ্ছে যুদ্ধের প্রতীকী সতর্ক সংকেতের রক্তাক্ত ম্যুরাল। যেখানে ফুটে উঠেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ডেকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত যুদ্ধবিমান, বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহ এবং রক্তের ধারা। সমুদ্রের পানিতে লাল ও সাদা রঙের নকশায় ভাসছে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবির এক কোণে বড় করে লেখা ঝড়ের বীজ বুনলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে পড়তে হবে।
ইরানের স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যত হুমকিই দিক, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছে ইরান। তারা হামলা চালালে ইরান চুপ করে বসে থাকবে না।’
অন্য একজন বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কিছু অর্জন করতে পারেনি বলে এখন তারা হুমকি দিচ্ছে। সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে। যা কখনোই পারবে না।’
আরও পড়ুন:
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপে নিজেদের ভূখণ্ড, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কোনো লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না তারা। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে আমিরাত।
তবে চার দশক ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে ইরানের প্রধান শিল্প খাতে। যা বাসিন্দাদের ফেলেছে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। এতে বেড়েছে জীবনযাত্রার খরচ। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ জনগণ এরইমধ্যে আন্দোলনেও নেমেছে। দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ছাড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের জ্বালানি, জাহাজ চলাচল, আর্থিক ও শিল্প খাত।
ইরানের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলোর প্রযুক্তি খাত, বিদেশি ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যা ইরানের শিল্প খাতকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে।’
অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ করলেও তেহরানের ক্ষেত্রে এ ধরনের পথ খোলা রাখেনি।’
গেল ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে প্রতিবাদ ক্রমেই রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। এরপরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি জানান, বিক্ষোভকারীদের সাজা বা ফাঁসি দিলে ইরানকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।





