যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায়, গাজার হামাস যোদ্ধাদের নির্মূলের নামে আগ্রাসী অভিযান বন্ধ আছে ইসরাইলি বাহিনীর। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত যুদ্ধ উত্তেজনার পারদ কিছুটা শিথিল হওয়ায়, ঠান্ডা মাথায় সমরাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে হামাসের সবচেয়ে বড় মিত্র ইরান। গতমাসে বিমান প্রতিরক্ষা মহড়ার পর এবার একের পর এক সমরাস্ত্র মহড়ার মধ্য দিয়ে তার আভাসও দিচ্ছে দেশটি।
মিত্র এবং নিজেদের নিরাপত্তায় যেকোনো বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় সামর্থ্যের জানান দিতে এসব মহড়া চালানো হচ্ছে বলে দাবি ইরানের। এরমধ্যে বেশি আলোচনায় এসেছে ইসরাইলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে রূপ নেয়া ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের নামে তৈরি গাজা-নামের ড্রোনটি। এছাড়া এক হাজার নতুন অত্যাধুনিক ড্রোনের পাশাপাশি ইতিহাসের প্রথম গোয়েন্দা জাহাজও আছে এ তালিকায়। আছে আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টারও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসার আগে-পরে এসব মহড়ার মধ্য দিয়ে এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় ইরান। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইরানের শক্তি সম্পর্কে টের পেয়েছেন বলে দাবি তেহরানের। এমনকি গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ওভাল অফিসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, ইরান দুর্বল নয়, তারা এখন বেশ শক্তিশালী।
২০১৫ সালের চুক্তির আওতায় শিথিল হয় ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসে ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন আবার তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক শান্তি চুক্তি করতে চান ট্রাম্প।
এমনকি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনায় বসার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জবাবে তেহরান বলছে, ওয়াশিংটনের সাথে এই মুহূর্তে আলোচনায় বসা বুদ্ধিমানের হবে না। আমেরিকানরা বিশ্ব মানচিত্রের পরিবর্তন চায় বলেও অভিযোগ ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, 'আমরা আগেও আলোচনা করেছি, ছাড় দিয়েছি, আপস করেছি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাইনি। আগে একবার চুক্তি লঙ্ঘন করে আমাদের অবমূল্যায়ন করেছে। এই একই ধরনের মার্কিন প্রশাসনের সাথে আমাদের আলোচনা বসা কিছুতেই উচিত হবে না। এটি যুক্তিসঙ্গতও নয় এবং সম্মানজনকও নয়।'
বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী মাত্র ৩৩ ইসরাইলি জিম্মির বিনিময়ে এক হাজার কারাবন্দি ফিলিস্তিনিকে মুক্ত করতে পারাকে হামাসের জন্য বিজয় হিসেবে দেখছে তেহরান। তেহরানে যাওয়া হামাস ও ফিলিস্তিনি নেতাদের উদ্দেশ্যে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বলেন- এরমধ্য দিয়ে ইসরাইলের ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থা পরাজিত হয়েছে, যা আসলে যুক্তরাষ্ট্রেরই পরাজয়।