ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উৎকণ্ঠা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
0

বাণিজ্য-যুদ্ধের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন বিশ্ব। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বিশ্বব্যাপী নতুন শুল্কারোপ ঘোষণা করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ। তবে এই শুল্কের আকার কেমন হবে, কিংবা বাণিজ্যিক সংকট কতটা তীব্র হতে পারে তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে এতেই চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হয়েছে সর্বস্তরের ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের।

একেকটি শব্দই যেন মারণাস্ত্র। বিরামহীন বাক্যবাণে অস্থির করে তুলছেন বিশ্বকে। ঊনবিংশ শতাব্দীর দৃষ্টিতে দেখতে গিয়ে একবিংশ শতকের বিশ্বকে এভাবেই হুমকিতে ফেলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই ২ এপ্রিলকে 'স্বাধীনতা দিবস' আখ্যায়িত করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারে বারে হুমকি দিয়েছেন, নতুন শুল্ক দিয়ে কাঁপিয়ে দেবেন বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থাকে। শুল্কের আকার কেমন হবে, কিংবা বাণিজ্যিক সংকট কতটা তীব্র হতে পারে, জানা যায়নি কিছুই। তবে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা সব দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কার্যকর হবে ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার (২ এপ্রিল) রাত ৮টায়, প্রেসিডেন্টের ঘোষণার সাথে সাথে, জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। শুধু অটোমোবাইল আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল)।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, 'মার্কিন কর্মজীবি ও ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ঠিক যেমনটা তিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে বলেছিলেন। আগামীকাল তার ঐতিহাসিক এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পুরো শিল্পখাতে মার্কিন প্রতিযোগিতার আরও উন্নতি ঘটবে। এতে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসার পাশাপাশি আমাদের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার চূড়ান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।'

ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে আগেই শুল্ক আরোপ করেছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট, চীনের সকল পণ্যেও বাড়িয়েছেন শুল্ক। এছাড়া আরও অনেক শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও পরে সেগুলো বাতিল বা স্থগিতও করেছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য, নির্দিষ্ট দেশ বা নির্দিষ্ট পণ্য নয়, প্রায় সব দেশের সব ধরনের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক বসাতে পারে ওয়াশিংটন। নতুন শুল্কের মাধ্যমে ছয় লাখ কোটি ডলারের বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব যোগ হতে পারে মার্কিন অর্থনীতিতে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মিত্রদের সাথে মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের কঠিন হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিকটতম প্রতিবেশি কানাডা, আটলান্টিকের অপর প্রান্তে ইউরোপীয় মিত্রসহ প্রায় সব দেশ।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, 'ইউরোপ এ যুদ্ধ শুরু করেনি। আমরা মনে করি এটা ভুল সিদ্ধান্ত। আমার বার্তা এটাই যে নিজেদের মানুষ ও সমৃদ্ধির সুরক্ষায় সর্বশক্তি ঢেলে দিতে হবে আমাদের। সারাবিশ্বে সবচেয়ে বড় একক বাজার আমাদের। আমাদের আলোচনার জোর আছে। আমাদের চাপ দেয়ার ক্ষমতা আছে।'

ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ বুমেরাং হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই আঘাত করবে কি না, উঠছে সে প্রশ্নও। কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জন আন্দোলনে এরই মধ্যে ক্ষতি গুণতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান। যদিও প্রেসিডেন্টের যুক্তি, কয়েক দশকের মুক্তবাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন বাজারে তিন লাখ কোটি ডলারের পণ্য ঢুকেছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও বহির্বিশ্বের চরম ভারসাম্যহীন বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এ দাবি সত্য হলেও ভারি শুল্ক আরোপ সমাধান নয়, বলছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে দেশের ভেতরে-বাইরে বাড়বে দ্রব্যমূল্য, ধাক্কা লাগবে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে। ইয়েল ইউনিভার্সিটির বাজেট ল্যাবের তথ্য, আগেই আরোপিত ২০ শতাংশ শুল্কের জেরে মার্কিন পরিবারগুলোতে এরই মধ্যে গড়ে খরচ বেড়েছে অন্তত সাড়ে তিন হাজার ডলার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিজুহো সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিভেন রিচিউতো বলেন, 'ভোক্তারা নিজেদের পকেট থেকে খরচ করবে না। উৎপাদককেই আংশিক হলেও খরচ বহন করতে হবে। মুদ্রার দাম কিছুটা পড়ে যাবে। অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই এটি ক্ষতি কমানোর প্রক্রিয়া। আমি কোনো পণ্য উৎপাদন করলে মার্কিন বাজারে টিকে থাকতেই চাইবো এবং ঝুঁকি নেবো। সেক্ষেত্রে আমি ব্যবসা বন্ধ করে দেবো? নাকি কিছুদিন একটু ক্ষতি গুণে হলেও টিকে থাকার চেষ্টা করবো এবং খরচ কমিয়ে আবারও প্রতিযোগিতায় ফিরবো? এই সিদ্ধান্তটাই নিতে হবে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে।'

আর্থিক নীতি নির্ধারণে ট্রাম্পের এলোমেলো পদক্ষেপের জেরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে মার্কিন অর্থনীতিতে। এর ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশটিতে যে এরই মধ্যে গতি হারাচ্ছে অর্থনীতি, সে লক্ষণও দৃশ্যমান। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক সামনে রেখে জাপান থেকে যুক্তরাজ্য, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রসহ সারাবিশ্বের উৎপাদন খাতে মার্চ ছিল ভাটার মাস। বিনিয়োগকারীদের তীব্র অনাস্থায় গেলো এক মাসে পাঁচ লাখ কোটি ডলার হাওয়া হয়ে গেছে মার্কিন পুঁজিবাজার থেকে।

এসএস

শিরোনাম
বাংলাদেশের বাণিজ্যের স্বার্থে আগামী দু-একদিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে চিঠি প্রেরণ করা হবে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে: প্রেস সচিব
শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই: চীনের গণমাধ্যম সিজিটিএনকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, বাংলাদেশে চীনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান
ভূমি ডিজিটাইজেশনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে 'আধুনিক ল্যান্ড সার্ভিস গেইটওয়ে' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের বৈঠক
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিকখাতের সংস্কার কর্মসূচিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট: অর্থ উপদেষ্টা, জুনে ঋণচুক্তির বাকি অর্থছাড়ের ব্যাপারে আশাবাদী
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না: অর্থ উপদেষ্টা
বাংলাদেশের বাণিজ্যের স্বার্থে আগামী দু-একদিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে চিঠি প্রেরণ করা হবে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কাছে: প্রেস সচিব
শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই: চীনের গণমাধ্যম সিজিটিএনকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, বাংলাদেশে চীনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের আহ্বান
ভূমি ডিজিটাইজেশনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে 'আধুনিক ল্যান্ড সার্ভিস গেইটওয়ে' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
গভর্নর ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের বৈঠক
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আর্থিকখাতের সংস্কার কর্মসূচিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট: অর্থ উপদেষ্টা, জুনে ঋণচুক্তির বাকি অর্থছাড়ের ব্যাপারে আশাবাদী
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না: অর্থ উপদেষ্টা