ন্যাটো সম্মেলনে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তির ঘোষণা নেতাদের

ন্যাটো লোগো
ন্যাটো লোগো | ছবি: সংগৃহীত
0

ন্যাটো সম্মেলনে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি উন্মোচন করতে যাচ্ছেন নেতারা। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তার জেরে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে জোটের মিত্র দেশগুলো। অন্যদিকে, ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান খুব কাছে চলে এসেছে। সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেন, তুরস্ক ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এদিকে, রাশিয়ার আক্রমণ মোকাবিলায় ন্যাটোর সহায়তা আশা করছেন জেলেনস্কি।

দুই দিনের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে তুরস্কে রাজধানী আঙ্কারায়। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক। রাজধানীজুড়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সব ধরনের বিক্ষোভ। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। ন্যাটো জোটের ৩২ দেশের নেতা ও সহযোগী দেশগুলোর কর্মকর্তারা যোগ দিচ্ছেন সম্মেলনে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্মেলনে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে ন্যাটোর প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের তিক্ততা ও অনীহা দূর করা। ইউরোপীয় নেতারাও এ বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

ইস্তাম্বুল-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এডামের পরিচালক সিনান উলগেন বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর নিরপেক্ষ অবস্থানের বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট খুব একটা ভালোভাবে নেবেন না। তিনি জোটের সমালোচনা অব্যাহত রাখতে পারেন। বৈঠকের মধ্যেও ট্রাম্প এ সমালোচনা অব্যাহত রাখবেন। তবে যতক্ষণ তা সীমার মধ্যে থাকবে, ততক্ষণ তা হজম করা হবে। এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে ইউরোপীয়দের বিনিয়োগ নিয়েও দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে।’

দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর সমালোচক এবং জোটকে কাগজের বাঘ বলে অভিহিত করলেও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ন্যাটোর মাধ্যমে ইউরোপীয়রা নিজেদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে আসছে।

আরও পড়ুন:

এবারের সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা কয়েক হাজার কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র চুক্তি বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন চাপ ও রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের জবাবে মিত্ররা তাদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করার বিষয়টিও স্পষ্ট করতে চান তারা।

ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প আলাদা বৈঠক করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার সঙ্গে। এদিকে, ক্রমবর্ধমান রুশ হামলা মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তা জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন ভলোদিমির জেলেনস্কি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সবাই যা ভাবছে আমরা ধারনা ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান এর চেয়ে অনেক বেশি কাছাকাছি চলে এসেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এর অবসান চান। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এখনই যুদ্ধের অবসান চান। ন্যাটোতে এ বিষয়ে একটা সমাধান আসবে। এ যুদ্ধ একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রতি মাসেই হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ এরদোয়ানে সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে। ইউরোপীয় নেতাদের প্রত্যাশা, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের তিক্ত সম্পর্ক এ সম্মেলনের মাধ্যমে কিছুটা ঘুচবে।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের পর, ন্যাটো এবার প্রকৃত সক্ষমতা তৈরি করেছে। ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এবং কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় সমান করার পথে রয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা ন্যাটোর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আরও বেশি নেতৃত্ব গ্রহণ করছে। ইউক্রেনকে সমর্থন দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে সবাই।’

ইরান যুদ্ধ ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে। ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি ট্রাম্পের বিরক্তি এবারের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনকে ম্লান করে দিতে পারে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।

এফএস