মেলোনি একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত হতেন। কিন্তু গত মাসে ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা৭-কে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুনয়-বিনয়’ করেছিলেন। মেলোনি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্পকে গল্প ‘সাজিয়ে’ বলার অভিযোগ তোলেন।
মঙ্গলবার ও বুধবার আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতার যোগদানের কথা রয়েছে। এর আগেই ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প মেলোনির একটি ছবি পোস্ট করে বিতর্ক আবার উসকে দিয়েছেন। ছবিটিতে মেলোনিকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে; ক্যাপশন দেয়া হয়েছে ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার প্রয়োজন’। ট্রাম্পের এই সর্বশেষ উসকানির পর মেলোনির প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; এতে ন্যাটো সম্মেলনে মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি বলেছেন, রোম এই উসকানিতে পা দেয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যে-ই হোক না কেন, ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ইতালি। লা স্তাম্পা পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প তার নিজের কথা বলছেন। আমাদের এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আছেন, যিনি বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিতে ভালোবাসেন। আমরা এসব মন্তব্যের জবাব দেয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
হাসিমুখে অভ্যর্থনার প্রস্তুতি
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তোসহ সরকারের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন। মেলোনির দপ্তর আঙ্কারায় ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে তার আচরণ কেমন হবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। তবে মেলোনির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পকে উপেক্ষা করবেন না। তিনি এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে জানেন এবং বরং ‘হাসিমুখে’ তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
মেলোনি একসময় ট্রাম্পের কণ্ঠ্য সমর্থক ছিলেন। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন তিনি। দুই নেতার অভিন্ন ডানপন্থি রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভর করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার আশা করেছিলেন মেলোনি। তবে ইরান সংঘাতের নিন্দা করায় পোপ লিওকে আক্রমণ করার জন্য চলতি বছর ট্রাম্পের সমালোচনা করেন তিনি। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তীব্র ভাষায় মেলোনিকে সাহস না থাকার অভিযোগ করেন।
প্রকাশ্য এই বিরোধের পর ইতালির গণমাধ্যমে জল্পনা তৈরি হয় যে, ইতালি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করতে পারে। তবে সৌহার্দ্যের ইঙ্গিত হিসেবে সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা গত সপ্তাহে রোমে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ইতালিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। কিছু বিরোধী দলও মেলোনির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। ইতালির পত্রিকা ইল ফোলিও মঙ্গলবার প্রথম পাতায় ট্রাম্পের এই খোঁচাকে ব্যঙ্গ করেছে। পত্রিকাটি রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করে, যার ক্যাপশন দেয়া হয়—‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার প্রয়োজন’।





