গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি আকাশ থেকে বোমা ফেলে ইরানি ভূখণ্ডে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের বহু হিসেব-নিকেশ কষে ৪ মাস পর খামেনির জানাজা ও দাফনের আয়োজন করেছে তেহরান। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে যার আনুষ্ঠানিকতা।
টানা ৬ দিন ধরে চলবে ঐতিহাসিক এই জানাজার আনুষ্ঠানিকতা। যার পদচিহ্ণ বহন করবে ৫টি শহর। তবে খামেনির জানাজার নামাজ কে পড়াবেন তা এখনও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ। তার ছেলে মোজতবা খামেনির অংশগ্রহণ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
শনিবার সর্বসাধারণের শ্রদ্ধার জন্য আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ রাখা হবে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে। সোমবার সেখানেই অনুষ্ঠিত হবে তার প্রথম জানাজা। পরে, মঙ্গলবার তেহরানের পথ ধরে বিশাল মিছিল নিয়ে খামেনির মরদেহ নেয়া হবে কোম শহরে। এরপর নেয়া হবে নাজাফ শহরে এবং সবশেষ ইরাকের কারবালায়।
৪টি শহর ঘুরে জন্মস্থান মাশদাদে দাফনের জন্য আনা হবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ। যেখানে ইমাম রেজার মাজারের পাশে সমাহিত করা হবে তাকে।
খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে যোগ দেবেন হাজারো মানুষ। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশসহ অন্তত ৩০টি দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও ৯০টি দেশের ধর্মীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, খামেনির জানাজা ও দাফনে দেড় থেকে ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া সত্ত্বেও এতো বিপুল জনসমাগমে হামলার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন কাউন্টার টেরোরিজম কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন নেতারা এ জানাজায় অংশ নেবেন। তাই একে বলা হচ্ছে ‘টার্গেট রিচ ফিউনারেল’।
ইতিহাস ঘেটে দেখা যায়, ১৮৮৯ সালে ইরানের সাবেক শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খামেনির দাফনে ব্যাপক হট্টগোল হয়। ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায় তার মরদেহ। পরে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তা উদ্ধার করা হয়।
২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত ইরানের বিপ্লবী গার্ড নেতা কাসেম সোলাইমানির জানাজায়ও তেহরান ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। অতিরিক্ত ভিড়ে পদদলিত হয়ে মারা যান অনন্ত ৫৬ জন। পরে তার দাফন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।





